শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ গৌড়েশ্বরে চুরি’র প্রতিবাদ করায় হামলায় আহত ২, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ এম
হাজীগঞ্জ গৌড়েশ্বরে চুরি’র প্রতিবাদ করায় হামলায় আহত ২, থানায় অভিযোগ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১ নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের গৌড়েশ্বর এলাকায় চুরির প্রতিবাদ করায় এক কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ইমাম হোসেন,তানিম হোসেন ও নবীর হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হামলার সময় নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গৌড়েশ্বর এলাকার একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—মোঃ হানিফ কাজী (৫০) ও আব্দুল মালেক কাজী (৬৫)।

লিখিত অভিযোগে হানিফ কাজী জানান,কয়েকদিন আগে ইমাম হোসেনের ভাতিজাকে চুরির সময় হাতেনাতে ধরার পর থেকেই তিনি হুমকি-ধমকির মুখে ছিলেন। পরবর্তীতে মসজিদের কাজের জন্য আনা ভেকু (খনন যন্ত্র) ঘিরে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

Model Hospital

ঘটনার দিন ভেকুর তেলের টাকা দিতে গেলে ইমাম হোসেন ও তানিম হোসেন দেশীয় অস্ত্রসহ তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

একই সময় তানিম হোসেন তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে,ঘটনাস্থলে উপস্থিত আব্দুল মালেক কাজী মীমাংসার চেষ্টা করলে নবীর হোসেন তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে জানা যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়রা দাবি করেন, ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও ফুটবল খেলার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল জব্বার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’