শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দ্রুত ব্যবস্থা চায় ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা

চাঁদপুরের পুরানবাজারে পল্টুন সংকট: বাড়ছে দুর্ঘটনা

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৯ পিএম
চাঁদপুরের পুরানবাজারে পল্টুন সংকট: বাড়ছে দুর্ঘটনা

চাঁদপুরের পুরানবাজারের ভূঁইয়ার ঘাটে পল্টুনের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ওঠানামা করছেন শ্রমিকরা। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, শঙ্কিত ব্যবসায়ীরাও।

ব্যবসায়ীরা জানান, পুরানবাজার এলাকার মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীসংলগ্ন এই ঘাটটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য ওঠানামা হয়। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি পল্টুন থাকায়, বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে সেটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পল্টুন সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ২০১৭ সালের মে মাসে বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালকের কাছে দেওয়ানঘাট, ১ নম্বর ঘাট এবং জনতা মিলসংলগ্ন নতুন সড়কের মাথায় তিনটি পল্টুন স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, পল্টুনের অভাবে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত নতুন পল্টুন স্থাপন জরুরি।

Model Hospital

চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাজমুল আলম পাটওয়ারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নতুন পল্টুন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতা লবণ মিলসের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভূঁইয়ার ঘাটের পল্টুনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়েই পুরানবাজারের বেশির ভাগ মালামাল লোড-আনলোড হয়। তাই এখানে অন্তত একটি কার্যকর পল্টুন স্থাপন খুবই জরুরি।’

এ বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনব। দ্রুত এখানে একটি জেটি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’

ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আশা, দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’