শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় সড়ক মেরামতের ৫ দিনের মাথায় গর্তের সৃষ্টি, চলাচলের অনুপযোগী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
কচুয়ায় সড়ক মেরামতের ৫ দিনের মাথায় গর্তের সৃষ্টি, চলাচলের অনুপযোগী

কচুয়ায় সড়কের মেরামতের ৩ দিনের মাথায় পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি,চলাচলের অনুপযোগী।

চাঁদপুরের কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে কাশিমপুরের পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘতম সড়কটি দীর্ঘদিনের দিনের ভোগান্তে অবসান ঘটাতে মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া স্থানীয় লোকজনের মাঝে অনেকটাই স্বস্তি আসলেও বর্তমানে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কটি। রাস্তাটির ঢালাই এর ৫ দিনের মাথায় পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বর্তমান অনেক যায়গায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপদের রাস্তাটি নিম্নমানের পাথর,ইট, বিটুমিন কম দেওয়া এবং কার্পেটিংয়ে পুরুত্ব (থিকনেস) কম রেখে কাজ করছে ঠিকাদার। এতে অনেকটা কাজ শেষ হওয়ার আগেই কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সংস্কারে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় পূর্বের গর্তে ও মাটির উপর খালি পাথর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কাজের শুরুতে অনিয়ম করেছে ঠিকাদারী লোকজন। রাস্তার মেরামতের কাজে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপদের অফিসের কেউ তদারকি না থাকায় ঠিকাদার এই অনিয়ম গুলো করে গেছে। অনিমের বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার ঠিকাদার লোকজনকে বললেও তারা কোন আমলে নিচ্ছে না।

তারা আরো জানান, এ রাস্তাটির দীর্ঘদিন সংস্কার বা মেরামত না হওয়ায় চলাচলের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এ রাস্তা দিয়ে ছোট বড় সকল ধরনের মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করে থাকে। রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু হলে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসে।

Model Hospital

কিন্তু দুঃখের বিষয় রাস্তাটি মেরামতের কাজের শুরুতে ঠিকাদার ব্যাপক হারে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। বর্তমানে রাস্তাটি মেরামতের কার্পেটিং ঢালাই এর ৫ দিনের মাথায় পাথরগুলো উঠে পূর্বের গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার কোন জায়গায় বিটুমিন, তৈল, ইটের খোয়া না দিয়ে খালি বড় পাথর দিয়ে গেছে। বড় বড় পাথরগুলোর কারণে বর্তমান রাস্তাটি মানুষের স্বস্তির চেয়ে দুর্ভোগের পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, “দায়সারাভাবে সড়কের কাজটি করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদের তেমন তদারকিও নেই। এ রাস্তা টিকবে বলে মনে হচ্ছে না।

সিএনজি ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন বলেন, “কাজ শেষ না হতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার করা আর না করা একই হলো। ভেবেছিলাম এই কাজের ফলে ভোগান্তি কমবে, এখন দেখছি ভোগান্তি আরও বাড়বে।

রাস্তার সংশ্লিষ্ট তদারকি সড়ক ও জনপদের ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ বলেন, রিফারিং এর জন্য রাস্তাটি এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। মানুষের চলাচলের জন-দুর্ভোগ দেখে ঠিকাদার দিয়ে রাস্তাটি রেফারিং করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ হলে ওই ঠিকাদারকে কাজের পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। অনিমের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান এবং ফোন কেটে দেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’