শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বেসরকারি এমপি ভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষকদের খুব শীঘ্রই বদলি শুরু হবে: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
বেসরকারি এমপি ভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষকদের খুব শীঘ্রই বদলি শুরু হবে: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

চাঁদপুরের কচুয়ায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০১ মে ২০২৬) বিকেলে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উপজেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার বালিকা গ্রুপ থেকে আশ্রাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিলাস্থান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালক কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাগদৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলাররা অংশগ্রহণ করে। ফাইনালে বালক কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিকা আশ্রাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিজয়ী হন।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, বেসরকারি এমপি ভুক্ত স্কুল কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষকদের খুব শীঘ্রই বদলি শুরু হবে। তার পাশাপাশি প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষকদের খুব শীঘ্রই নিয়োগ প্রদান শুরু হবে।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমার ছোট সোনা মনিরা, তোমরা কেমন আছ:  আমরা লেখাপড়াকে আনন্দময় করে তোলবো তোমরা যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গড়ে তোল এটাই আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন। আমরা সকল স্কুলে ড্রেস দেব,  মেয়েদের জন্য ফ্রগ, জুতা ও ব্যাক দেব। মিড ডে মিল্ক সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তোমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা থাকবে। নাচের ,গানের, খেলাধুলা ও কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুন্দর সুন্দর পুরস্কার নিয়ে বাড়িতে যাবে।  খেলাধুলার মধ্যে জয় পরাজয় থাকবে আজকে যারা বিজয়ী হয়েছ তোমাদের জন্য শুভ কামনা, আর যারা পরাজয় হয়েছ শুভকামনা রইল আগামী দিনের জন্য। তোমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে, এই বছরে তোমাদের জন্য আরেকটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করার হবে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নাজমুন নাহার বেবী সদস্য, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, বিএনপি সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

​অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তোলে দেন মন্ত্রী। এসময় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’