শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় খাল দখলে ২০০ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
কচুয়ায় খাল দখলে ২০০ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে, দুশ্চিন্তায় কৃষক

কচুয়ায় প্রবহমান খাল দখল করায় ২শত হেক্টর জমির ইরিবোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র পুরোনো খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় অন্তত ২০০ হেক্টর ইরি–বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ফসলহানির শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুলবাহার, মহদ্দিরবাগ, দেবিপুর, কাপিলাবাড়ি, মনপুরা ও কাদলাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমির পানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই খালটি। কিন্তু বছরের পর বছর দখল ও ভরাটের কারণে এখন খালটির অনেক অংশে আর কোনো চিহ্নই নেই। কোথাও বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও ভরাট করে বানানো হয়েছে চলাচলের রাস্তা।

খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে সারা বছরই জলাবদ্ধতায় ভোগে ফসলি জমি। কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর এ এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মণ ইরি–বোরো ধান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কালবৈশাখীর ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির কারণে অনেক জমির ধান হাঁটুপানি ডুবে গেছে।

কৃষক মো. আলমাছ উদ্দিন বলেন, “একটি প্রভাবশালী মহল খালটি ভরাট করে দুই পাশে বাড়িঘর তুলেছে, এমনকি খালের ওপর দিয়ে রাস্তা বানিয়েছে। ফলে বিলের পানি বের হতে পারছে না। প্রতি বছর আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”

Model Hospital

আরেক কৃষক মিজান মোল্লা বলেন, “বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বের হতে না পেরে আশপাশের বাড়িঘর ও সড়কে উঠে আসে। এতে চলাচলেও ভোগান্তি হয়। আমরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, খালটি দখলমুক্ত করে দ্রুত পুনঃখনন করা হোক।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “উপজেলার কয়েকটি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। অন্যান্য খাল খননের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। খাল দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’