শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার ৮ম বছরে পদার্পণে শিক্ষা সহায়তা প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:২৩ এম
দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার ৮ম বছরে পদার্পণে শিক্ষা সহায়তা প্রদান

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় ও মানবিক সেবামূলক সংগঠন ‘দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা’ গৌরবময় পথচলার ৭ বছর পূর্ণ করে ৮ম বছরে পদার্পণ করেছে। “সৃষ্টির সেবা করলে স্রষ্টাকে পাওয়া যায়”—এই মহান ব্রত নিয়ে ২০১৯ সালের ১০ই মে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

গত (১০ তারিখ) সংগঠনের ৮ম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে সংগঠনটি এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় একজন অত্যন্ত মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল এইচএসসি পরীক্ষার্থীর হাতে নগদ ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা শিক্ষা সহায়তা হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “হাটিহাটি পা পা করে আমরা আজ ৭টি বছর পার করেছি শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসা এবং অকুণ্ঠ সহযোগিতায়। আমাদের লক্ষ্য কেবল সংগঠন পরিচালনা করা নয়, বরং সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মুখে হাসি ফোটানো। ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক বড় বড় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে ইন শা আল্লাহ।

“সংগঠনের দায়িত্বশীলরা তাদের বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে যারা মেধা, শ্রম, সুচিন্তিত পরামর্শ এবং আর্থিক অনুদান দিয়ে সংগঠনের ভীত মজবুত করেছেন, তাদের প্রত্যেকের অবদান অনস্বীকার্য। আর্তমানবতার সেবায় দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা সর্বদা জনগণের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’