শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বর্গাচাষী সাইফুলের কণ্ঠে কৃষকের কথা, পাশে বসালেন প্রধানমন্ত্রী

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
শাহরাস্তিতে বর্গাচাষী সাইফুলের কণ্ঠে কৃষকের কথা, পাশে বসালেন প্রধানমন্ত্রী
শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায় খোর্দ্দ হতে শৈলখালী পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমধর্মী আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
১৬ মে, শনিবার  ওই অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকের প্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য রাখা বর্গাচাষী কৃষক সাইফুল ইসলাম লিটনের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে নিজের পাশে বসান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিকতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক।
সাইফুল ইসলাম লিটনের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশী গ্রামের কোনার বাড়িতে। পেশায় তিনি একজন বর্গাচাষী কৃষক। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেই চলে তার সংসার। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি গরুও পালন করেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তার পরিবার।
বাবা-মা দু’জনই মৃত। অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম লিটন কৃষকের জীবনসংগ্রাম, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। কালো শার্ট, লুঙ্গি ও গলায় লাল গামছা জড়ানো তার সরল উপস্থিতি এবং আবেগঘন বক্তব্য জনসভায় উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠে কাজ করেই আমাদের জীবন চলে। কিন্তু বর্তমানে কৃষকের অবস্থা খুবই কঠিন। আমরা যে ফসল উৎপাদন করি, তার ন্যায্য মূল্য পাই না। অন্যদিকে সার, বীজ, তেল ও বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এতে কৃষকদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বড় কোনো দাবি নিয়ে আসিনি। আমরা শুধু আমাদের শ্রমের মর্যাদা ও ফসলের ন্যায্য দাম চাই। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
দেশের দায়িত্বশীল মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি কৃষি উপকরণের দাম কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” স্লোগান দেন। স্থানীয়দের মতে, প্রান্তিক কৃষক সাইফুল ইসলামের বক্তব্যে দেশের সাধারণ কৃষকদের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। তার সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী উপস্থাপনা জনসভায় উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কৃষকের এ বক্তব্য প্রত্যক্ষ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূর উদ্দিন অপু, স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি, তথ্য সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত তথ্য সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক কেন্দ্রীয় তাতীদলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী সমর্থক নেতৃবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’