শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার : সি. জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৪৫ এম
ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার : সি. জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান সামছুন্নাহার।

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির ২০২৬ সালের ৫ম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান সামছুন্নাহার।

সভাপতির বক্তব্য সিনিয়র জেলা জজ বলেন, ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু অনেক সময় আর্থিক অক্ষমতা, অজ্ঞতা কিংবা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি মানবিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, যা অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচারের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের এই সেবামূলক কার্যক্রম কেবল আইনি সহায়তা প্রদান নয়, বরং ন্যায়বোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, লিগ্যাল এইড সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আইনজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। তিনি সকলকে লিগ্যাল এইড বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষ তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং প্রয়োজনে লিগ্যাল এইডের সহায়তা গ্রহণ করতে পারে।

Model Hospital

তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার থেকে যেন অসহায়, অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন গরিব মানুষগুলো বঞ্চিত না হয়, সে জন্যই সরকার লিগ্যাল এইড কমিটি তথা জাতীয় আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করেছে। সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমের একটি অংশ হলো লিগ্যাল এইড। অস্বচ্ছল বিচারপ্রত্যাশীদের বন্ধু হচ্ছে সরকার—এটাই লিগ্যাল এইডের মূলমন্ত্র। সরকারি এ উদ্যোগে লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীরা অস্বচ্ছল বিচারপ্রত্যাশীদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এ কাজের সঙ্গে জড়িত প্যানেল আইনজীবীরা অনেক আন্তরিক। তাঁরা নামমাত্র সরকারি ফিতে আইনগত সহায়তা দিয়ে থাকেন।

জেলা ও দায়রা জজ বলেন, সারা জেলার তৃণমূল থেকে জনপ্রতিনিধিদের লিগ্যাল এইডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার গরিব, অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষগুলো বিনা খরচে সরকারিভাবে আইনি সহায়তা পায়। এ বিষয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেকেই যে যে পেশায়, যে যে অবস্থানে আছি, সেখান থেকেই সমাজের জন্য সেবার মানসিকতা নিয়ে কিছু করার সুযোগ রয়েছে। আমরা যেন তা করি।

চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার ( সিনিয়র সিভিল জজ) মো. আবদুল আলিমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুল রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান নিপা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নাজমুন নাহার
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) লুৎফর রহমান, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শামসুল ইসলাম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি অ্যাড. কোহিনুর বেগম, সরকারি কৌশলী (জিপি) অ্যাড. এ. জেড. এম রফিকুল হাসান (রিপন), জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা, চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সল, সমাজসেবা অফিসার (নিবন্ধন) মোঃ মনিরুল ইসলাম, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার বিল্লাল হোসেন, জীবন দীপ মানব উন্নয়ন সেবামূলক সংগঠনের সভাপতি অ্যাড বিনয় ভূষন মজুমদার, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ, সিভিল জর্জ সোহেল আহমেদ, প্যানেল আইনজীবী প্রভাষ চন্দ্র সাহা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’