শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতবিনিময় সভা

শাহরাস্তিকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১:২০ এম
শাহরাস্তিকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : ইউএনও মনিরা খাতুন
শাহরাস্তি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই আয়োজিত এ সভায় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, শাহরাস্তি একটি ঐতিহ্যবাহী, শান্তিপ্রিয় ও সম্প্রীতির জনপদ। এখানকার মানুষের সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক চর্চা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ জনপদের উন্নয়ন কার্যক্রম ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক মহোদয়ের নির্দেশনা ও  পরামর্শ  আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । আশা করি সেটি আমরা পাব। একই সঙ্গে
আমি বিশ্বাস করি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শাহরাস্তিকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমি কাজ করতে চাই। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে শাহরাস্তিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েঁত আলী ভুইঁয়া। তিনি বলেন, শাহরাস্তির মানুষ সবসময় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পক্ষে। নবাগত ইউএনও’র নেতৃত্বে প্রশাসন জনমুখী ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাহরাস্তির উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে আমরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মো. বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশেকুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহজাহান পাটোয়ারী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ, নিজমেহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা লাভলী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটন, ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর, মোশাররফ হোসেন মুশু, মাহতাবউদ্দিন হেলাল, লোকমান হোসেন লিটন, জহিরুল ইসলাম মজুমদার, জহিরুল আলম মানিক ও ওমর ফারুক দর্জিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’