শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

যোগ্যতা প্রমাণ করেই পেতে হবে সাংগঠনিক ও জনপ্রতিনিধির পদ : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০৯ এম
যোগ্যতা প্রমাণ করেই পেতে হবে সাংগঠনিক ও জনপ্রতিনিধির পদ : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি

শাহরাস্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পৌর শহরের কালিয়াপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটনের সঞ্চালনায় ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তার অগ্রদূত। তাঁর দেশপ্রেম, সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাজনৈতিক দর্শন আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান অসামান্য নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। স্বল্প সময়ে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি রচনা করেন। দেশের সমৃদ্ধি, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাঁর রাজনৈতিক দর্শন এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।আজ থেকে ৪৫ বছর আগে একদল বিপথগামী সেনা কর্তৃক তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

Model Hospital

যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো। তা না হলে এই দেশটি অনেক দূর এগিয়ে যেত। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া যায় না, নেতৃত্ব অর্জন করতে হয় জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও ত্যাগের মাধ্যমে। মানুষের পাশে থেকে শ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে নেতৃত্বে আসতে হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন অচিরেই হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি পর্যায়ক্রমে সকল দলীয় ইউনিটের কমিটি পুনঃর্গঠন করা হবে। নেতা আপনাদের নির্বাচন করতে হবে। পরে অভিযোগ দিয়ে লাভ হবে না। একই সময় তিনি সতর্ক করে বলেন কেউ দলীয় পরিচয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম বা অনিয়মে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না। যদি কারো অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শাহরাস্তির মাটিতে পথচারণ করেছেন। যা আমাদের এই জনপদের জন্য একটি ভাগ্য ও পজেটিভ বার্তা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলী,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম পাটওয়ারী লিটন,সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্ল্যাহ কাসার,আক্তার হোসেন পাটোয়ারী,হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহবায়ক মোঃ আবুল কালাম,যুগ্ম আহবায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, শফিউল্লাহ বাচ্চু, সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, উপজেলা বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বিলাস, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান বাবলু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলেমান রায়হান, ফখরুল ইসলাম এফসিপিএ,পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন,সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবি এম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজী, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ আলম, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন সিপন,অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোকের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামাদলের সভাপতি মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’