শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণার প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠান

উদ্ভাবনী চিন্তাই বদলে দেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
উদ্ভাবনী চিন্তাই বদলে দেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক

উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ (নতুন ব্যবসা উদ্যোগ), বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণার প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এসময় চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ (নতুন ব্যবসা উদ্যোগ), বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণার প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা সদরের ১৭টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও নতুন ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে।
এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এবং সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SEDP), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার আয়োজনে শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত শিক্ষামন্ত্রী রয়েছেন, যিনি কচুয়ার কৃতী সন্তান। তিনি শিক্ষা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় একই সময়ে শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল বাজেট অধিবেশনে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। সেখানে নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরতে সক্ষম হবে, সরকার তাদের পাশে থেকে সেই উদ্যোগকে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।

Model Hospital

এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তরুণদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারার বিকাশে সরকার সবসময় সহযোগিতা করবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আজ যারা বিজয়ী হয়েছো এবং যারা বিজয়ী হতে পারোনি, কেউই নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা থেকে পিছিয়ে যাবে না। এই প্রচেষ্টার সঙ্গে লেগে থাকলে একদিন না একদিন অবশ্যই সফলতা আসবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’