শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের নতুন যাত্রা: দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের নতুন যাত্রা: দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মতলব উত্তরে ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, আত্মপ্রকাশ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, আত্মপ্রকাশ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছরের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি আরও গতিশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অতিথিরা।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মো. রাশেদুল হাসান চাঁদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা মন্টু সরকার।
ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সজিব হোসেন পিন্টু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক একরামুল হক সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিয়াজী, নিশ্চিন্তপুর বন্ধুমহল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজমুল হাসান রোকন সরকার, সমাজসেবক শাহজাহান প্রধান, ফজলুর রহমান, আবুল কালাম ও আইয়ুব আলী মিয়াজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, সেবা, সহযোগিতা ও উন্নয়ন এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠন গত ১২ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে ঈদ সামগ্রী বিতরণ, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
তারা আরও বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে সংগঠনটি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করবে এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি চলমান উদ্যোগে পরিণত করবে।
অনুষ্ঠান শেষে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের এই উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’