শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ‘ইয়াবা সম্রাট’ রবি গ্রেপ্তার হলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
চাঁদপুরে ‘ইয়াবা সম্রাট’ রবি গ্রেপ্তার হলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচিত রবিউল গাজী রবি (২৭) অবশেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। তার কাছ থেকে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় রবি একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সন্ধ্যা নামলেই কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে হাতে রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করত তার অনুসারীরা। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, শাহতলী গ্রামের শান্তকারী, পাইকদী গ্রামের ফারুক খান, ভাটেরগাঁও গ্রামের হৃদয় মজুমদার, কাজী বাড়ির হৃদয় কাজী, পাটোয়ারী বাড়ির শিশু পাটোয়ারী ও বেপারী বাড়ির সাহেদ খানসহ কয়েকজনকে নিয়ে রবি এই অঞ্চলে একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও তরুণ প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, ফলে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাত প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে চাঁদপুর সদর মডেল থানার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানের নির্দেশনায় এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে এসআই আবু নছর নিপুর নেতৃত্বে একটি দল রবিকে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ।

Model Hospital

গ্রেপ্তারকৃত রবিউল গাজীর বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলীর গাজী বাড়ির নূর গাজীর ছেলে। জানা যায়, রবিউল গাজী রবি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, রবির সঙ্গে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’