শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সাথে বিডি ক্লিনের সদস্যদের মতবিনিময়

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সাথে বিডি ক্লিনের সদস্যদের মতবিনিময়

পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন চাঁদপুর সদর টিমের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন চাঁদপুর সদর টিমের পক্ষ থেকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিডি ক্লিনের সদস্যরা সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশাপাশি চাঁদপুর জেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিডি ক্লিন দেশের তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন ও নাগরিক সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জেলায় পরিণত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিডি ক্লিনের মতো সংগঠনগুলো মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তরুণদের এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া সময়ের দাবি।

Model Hospital

বিডি ক্লিন চাঁদপুর সদর টিমের সদস্যরা জানান, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে তারা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছেন। ভবিষ্যতেও একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যসম্মত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিডি ক্লিন চাঁদপুর সদর টিমের টিম মনিটর রোজিনা আক্তার, মডারেটর (আইটি অ্যান্ড মিডিয়া) সাকিল হোসেন, মডারেটর (লজিস্টিক) জায়েদ হাসান, সাব মনিটর-১ জুয়েল হোসেন, সাব-মডারেটর (লজিস্টিক) আরিফ হোসেন এবং সদস্য মেহেদী হাসান সাকিব।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’