শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে রাতে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা: ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দিল পুলিশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
শাহরাস্তিতে রাতে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা: ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দিল পুলিশ
কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণতা ও রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।
অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে অভিভাবকদের সতর্কীকরণ ও জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টা থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত শাহরাস্তি থানাধীন মেহের উত্তর ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মোঃ আইয়ুব খাঁন, এএসআই (নিঃ) ফারুক আহাম্মদ ও এএসআই (নিঃ) হাবিবুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
অভিযান চলাকালে রাতের বেলায় অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার সময় ৯ কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয়। তবে ওই সময় বাইরে অবস্থানের যৌক্তিক কারণ সম্পর্কে তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
পরবর্তীতে আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আচরণের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তারা অঙ্গীকার করেন, তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে রাতের বেলায় অযথা ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করবে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং তাদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক পথে পরিচালিত করা। কিশোর বয়সের সাময়িক ভুল যেন ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগই কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে। ওসি আরও বলেন, “কিশোর গ্যাং, মাদক, সাইবার অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে শাহরাস্তি থানা পুলিশের জনসচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’