শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি নরিংপুরে মাঠ কাঁপাচ্ছে ‘মোল্লার টাইগার একাদশ’ ফুটবল ক্লাব

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
শাহরাস্তি নরিংপুরে মাঠ কাঁপাচ্ছে ‘মোল্লার টাইগার একাদশ’ ফুটবল ক্লাব

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরিংপুর গ্রামে ফুটবলের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং তরুণদের সুস্থ ক্রীড়াচর্চায় মগ্ন রাখতে মাঠ কাঁপাচ্ছে স্থানীয় জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ‘মোল্লার টাইগার একাদশ’। এলাকায় ইতিবাচক ফুটবল সংস্কৃতি তৈরি এবং যুবসমাজকে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করতে এই ফুটবল ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

​নরিংপুর গ্রামের একঝাঁক গতিশীল, প্রতিভাবান ও পরিশ্রমী ফুটবলারদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী টাইগার একাদশ। ইতিমধ্যে শাহরাস্তি উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ও নক-আউট ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চমৎকার ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করেছে দলটি। মাঠের ভেতরের গতিশীল পাসিং, আক্রমণাত্মক ফুটবল আর মাঠের বাইরের শৃঙ্খলার কারণে নরিংপুর ছাড়িয়ে পুরো উপজেলায় ‘মোল্লার টাইগার একাদশ’ এখন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম।

​স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, গ্রামীণ জনপদে ফুটবলের জোয়ার ধরে রাখতে এবং তরুণদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরিতে এই ক্লাবের অবদান অনস্বীকার্য। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এমন ফুটবল প্রতিভা উঠে আসা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই ক্লাবের ফুটবলাররা আগামীতে জেলা পর্যায় ছাড়িয়ে দেশের বড় বড় ফুটবল লীগে শাহরাস্তির নাম উজ্জ্বল করতে পারবে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​ক্লাবের খেলোয়াড় ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মাঠের ফুটবলই নয়, নরিংপুর গ্রামের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং যেকোনো সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ‘মোল্লার টাইগার একাদশ’ সবসময় প্রস্তুত। আগামীতে আরও বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং নিজেদের দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন ক্লাবটির মূল লক্ষ্য।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’