শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই দশকের সাংবাদিকতা আর ছয় মাসের দৈনিক নয়া প্রভাত

কাদের পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
দুই দশকের সাংবাদিকতা আর ছয় মাসের দৈনিক নয়া প্রভাত

২০২৭ সালের মার্চ মাসে আমার সাংবাদিকতার ২০ বছর পূর্ণ হবে। জ্যোতিষ বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, মিথুন রাশির জাতকরা একই কাজে দীর্ঘদিন থাকার অভ্যস্ততা গড়ে তুলতে পারে না। এটা আমার জন্য খুব করে প্রযোজ্য। আমিও মিথুন রাশির জাতক। একজীবনে অনেকগুলো চাকুরি আমি ছেড়েছি। আমি যা ছেড়েছি, তা অনেকের জন্য কাঙ্খিত বা আরাধ্যের বিষয়।

সকল পেশা, জাত গোত্রে কিছু মানুষ আছে যারা মানুষের পেছন পেছন ইনিয়েবিনিয়ে গল্প করেন। প্রসঙ্গ যদি আমি হই, ওসব আমি ব্যক্তিগতভাবে গায়ে মাখি না। তবে একটি নতুন দৈনিক তথা নয়া প্রভাত পত্রিকায় মাত্র ছয় মাস কেন কাজ করেছি সে নিয়ে কিছু বলা প্রয়োজন মনে করছি। বিষয়টি অনেকের কৌতুহলের উপলক্ষ বটে।আমাকে যারা পছন্দ করেন অথবা করেন না, যারা চিনেন অথবা চিনেন না, তাদের উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো বলা।

বছর দেড়েক আগেও দৈনিক নয়া প্রভাত পত্রিকা প্রকাশনার পরিকল্পনায় আমার সম্পৃক্ততা ছিল। পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ জয়নাল আবেদিন ভাইকে অভিজ্ঞতার সনদটিতে আমার স্বাক্ষর। পত্রিকার ডিক্লারেশন পেতে হলে যা যা শর্তাবলী বা কাগজপত্র এমনকি প্রস্তাবিত নাম সব ক্ষেত্রেই ছিল আমার মতামত। পত্রিকাটি ডিক্লেশেনের পর থেকেই আমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে মালিকপক্ষরা যোগাযোগ করছিল। আমি যেন পত্রিকাটিকে মাঠে আনতে সহযোগিতা করি।

চেষ্টা করেছি, একটি ভিন্ন আঙ্গিক, ভিন্ন মেকাপ, আঙ্গিক কিংবা নিউজ হেডলাইন এবং ইন্ট্রো স্টাইলে ভিন্নতা রাখার। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভুঁইফোড় অনলাইনের দৌরাত্ম্যে যখন মূল ধারার গণমাধ্যম হুমকিতে তখন একটি প্রিন্ট পত্রিকা মানুষের কতটা আস্থা বা গ্রহণযোগ্যতা অথবা পাঠকপ্রিয়তা তৈরি করতে পারবে তা সচেতন পাঠাক মাত্রই বুঝতে পারেন।

Model Hospital

পত্রিকাটি প্রকাশনায় আনতে গিয়ে অফিস-সংস্কার বা উন্নয়নসহ সকল কাজেই ছিল আমার প্রত্যক্ষ ভূমিকা। মাঠে আসার পূর্ব প্রচার-প্রচারণায় পরিকল্পনাতেও ছিলো আমার মতামত।

অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি পাঠকের জন্য বাজারে ছাড়া হল। চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে চমৎকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষেই পত্রিকাটি শীর্ষ দুজন কর্মকর্তাকে আমি জানিয়েছিলাম যে, আমি পত্রিকাটি বাজারে নিয়ে এসেছি এবং আর অল্প কিছুদিন আমি কাজ করতে চাই।

দৈনিক নয়া প্রভাতে যুক্ত হওয়ার ঠিক তিন মাস পর আমার মনে হল এবার বিদায় নেয়া উচিত। দেশের নামিদামি প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো যখন হাবুডুবু খাচ্ছে তখন নতুন পত্রিকা বাজারে এসে কী করবে? কতটা পাঠক গ্রহণ করবে তা নিয়ে এখনো সন্দেহ পোষণ করি। ঢাকার অনেক পত্রিকা কোটি কোটি টাকার বাজেট নিয়ে এসেও পাঠক মহলে ন্যূনতম সারা জাগাতে পারেনি। এসব উদাহরণ আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ করেছে।

মনে হল দৈনিক নয়া প্রভাত কর্তৃপক্ষকে ব্যয় সংকোচন নীতির ক্ষেত্রে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে আমার দায়িত্ব থেকে সরে আসা উচিত। তাই করেছি। অনেকে ভাবতে পারেন, নয়া প্রভাত কতৃপক্ষকে আমি চুষেছি। বস্তাবে তা নয়, আমি ৬মাসে যে সম্মানী পেয়েছি তার থেকে অধিক আর্থিক সাপোর্ট আমি দিয়ে এসেছি। বরং আমার মেধা-শ্রম ফ্রি পেয়েছে দৈনিক নয়া প্রভাত। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, নয়া প্রভাতকে আমি ঠকাইনি।

তাছাড়া আমার নিজের একটা ঘর আছে। দৈনিক শপথ এর সম্পাদক হিসেবে বর্তমানেও দায়িত্বে আছি। দৈনিক শপথ আমার ঘর আমার সংসার আমার সন্তান। সারাদিন মানুষ ঘরের বাইরে কাজ করে দিন শেষে ঘরেই ফিরতে হয়, ফিরে আসে। আমিও ঠিক তেমনটাই করেছি। দৈনিক শপথ কিছুদিন অনিয়মিত প্রকাশ হলেও বর্তমানে নিয়মিত প্রকাশনা কার্যক্রম চলছে। আমি বিশ্বাস করি, বোদ্ধা পাঠক বা যারা পত্রিকায় কাজ জানেন বা বুঝেন তারা দৈনিক নয়া প্রভাত এবং শপথের মেকাপের দিকে তাকালে বুঝবেন যে আসলেই আমি ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি। একটু নিমগ্ন ভাবে তাকাতে হবে কিন্তু। পেরেছি কি পারি না, সে নিয়ে ভাবছি না। আমি চেষ্টা ন্যূনতম কমতি রাখছি না।

যা হোক দৈনিক নয়া প্রভাতের সম্পাদক ও প্রকাশক বরাবরে আমার অব্যাহতি পত্র জমা দিয়েছি মার্চ মাসে। কিন্তু আমার নিয়োগে শর্ত ছিল তিন মাস আগে জানাতে হবে অব্যাহতি দিলে অথবা নিলে।

সম্পাদক ও প্রকাশক জয়নাল আবেদীন ভাই আমাকে ছাড়তে চাইলেন না। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ৪ জুলাইও যখন জয়নাল ভাইয়ের সাথে কথা বললাম, কথা দিয়েছি পত্রিকাটি যতদিন থাকবে ততদিন আমি প্রাণান্তর সহযোগিতা করে যাব।

কারণ পত্রটির নামকরণের পরিকল্পনাও ছিল আমার সুচিন্তিত মতামত। দৈনিক নয় প্রভাতে ছয় মাস কাজ করেছি এ নিয়ে কিছু মানুষের গাত্রদাহ হচ্ছে। আসলে বিষয়টা কি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না সোনার চানেরা।

বলে রাখি, আমি কাজের মানুষ দৈনিক ১৭-১৮ঘন্টা আমি কাজ করি। আমাকে নিয়ে শুধু শুধু সময় অপচয় না করে নিজের কাজে মনোযোগ দিন, দিন শেষে মঙ্গল আপনারই। প্রিয় পাঠক, সবাই ভালো থাকুন, দৈনিক নয়া প্রভাত ও দৈনিক শপথ পত্রিকায় দৃষ্টি রাখুন।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে ঘাটে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং ২জন স্টাফকে আটক করেন বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।

Model Hospital

স্থানীয় সৈকত নামের একজন বলেন, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে তাদের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরী হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে।ঘটনাস্থলে ৪ জন ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।