শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উন্মুক্ত হলো শতবর্ষের চলাচলের পথ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
শাহরাস্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উন্মুক্ত হলো শতবর্ষের চলাচলের পথ
শাহরাস্তিতে জনদুর্ভোগ নিরসনে আবারও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের একটি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি খাল ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে তা  আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪, জুলাই) জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনের তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনার (ভূমি),ওএক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউপি’র  নরিংপুরের একটি হিন্দুবাড়ি সংলগ্ন মৃধাবাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রধান রাস্তাটি প্রায় একশ বছর ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধের জেরে রাস্তাটি তারকাঁটা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় অন্তত ১৭টি পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  হিল্লোল চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তাটি উন্মুক্ত করা হয়। তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
এদিকে একই দিনে সূচীপাড়া উত্তর ইউপি’র হাড়াইরপাড়া এলাকায় সরকারি খাল ভরাটের অভিযোগে একটি  অভিযান চালানো হয়। ওইসময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মো. আব্দুর রহিম (৩৫)-কে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও তা আদায় করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন, জনসাধারণের চলাচলের পথ ও সরকারি সম্পদ দখল বা ভরাটের মতো কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মনিরা খাতুন বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন সবসময়ই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, শাহরাস্তি থানার এসআই ফরিদ আহমদ, পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় শিশু, নারী, বয়স্ক ও রোগীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পথটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’