শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন

শাহরাস্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মকবুল ও সম্পাদক পারভীন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মকবুল ও সম্পাদক পারভীন
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শাহরাস্তি উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এ কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মকবুল আহমেদ মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পারভীন সুলতানা লাজলী।
কমিটি অনুমোদনের খবরে শাহরাস্তি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষক নেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: নির্বাহী সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি (১) মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি (২) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি (৩) নাজমা বেগম, সহ-সভাপতি মো. আলী আক্কাস পাটোয়ারী, মো. শিবলী সাজ্জাদ, মো. হেলাল উদ্দিন, হামিদা বেগম ও ইভা রানী দে, সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা লাজলী, নির্বাহী সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম ও আফরোজা আক্তার রুমা, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম ও আসমা হাসিনা, সহ-সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, মো. বেলাল হোসেন ও মাহমুদা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান জুলহাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, মহিলা সম্পাদক হোসনে আরা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আরা, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব আলম, সহ-অর্থ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. আবু তাহের, শিক্ষা সম্পাদক মো. সাফায়েত হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ দলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, সংস্কৃতি ও বিনোদন সম্পাদক মো. মনির আহমেদ, যোগাযোগ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম পাটোয়ারী, প্রচার সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সমবায় সম্পাদক খোকন চন্দ্র মজুমদার, মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান, আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোতাহের হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক লতা রানী দে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ, আইন বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা, কল্যাণ ট্রাস্ট সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ফয়জুন নেসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদ আলম, কাব স্কাউট সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস, পরিকল্পনা সম্পাদক রাহানা আক্তার এবং সম্মানিত সদস্য মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া, মো. মনিরুজ্জামান ও বিমল চন্দ্র।
নবনির্বাচিত সভাপতি মকবুল আহমেদ মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়, পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।
সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা লাজলী বলেন, “শিক্ষকদের অধিকার ও কল্যাণে নিবেদিত একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। সকল শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে শাহরাস্তি উপজেলা শাখাকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করার পাশাপাশি শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাব।
কমিটি অনুমোদনের পর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। শিক্ষক নেতারা বলেন, নতুন এ কমিটি শাহরাস্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’