শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার হাসিনার মতো জনগনের সাথে ফ্যাসিবাদী আচরন করছে : মাওলানা এটিএম মাছুম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
সরকার হাসিনার মতো জনগনের সাথে ফ্যাসিবাদী আচরন করছে : মাওলানা এটিএম মাছুম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বলেছেন, সরকার হাসিনার মতো জনগনের সাথ ফ্যাসিবাদী আচরন করছে। বিএনপি কাধে স্বৈরাচারী ভূত চেপে বসেছে। গনভোটের গনরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ।

বিএনপি সরকারের কার্যকলাপে জনগন আশংকা করছে গনভোটের রায় বাস্তবায়নে আবারো রাজপথে নামতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের পরিবর্তে নতুন বৈষম্য তৈরী করছে। দেশের জনগনকে স্বাবলম্বী করার পরিবর্তে গোলাম বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি আজ শনিবার শহরের রাজবাড়ী কমিউনিটি সেন্টার চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত রুকন শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চাঁদপুর জেলা আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও জেলাসেক্রেটারি এডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়ার পরিচালনায় বিষয়ের উপর আলোচনা রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিন এর সহকারী সেক্রেটারি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিন এর সহকারী সেক্রেটারি ড আবদুল মান্নান, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য কুমিল্লা অন্চল টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা আবদুর রহীম পাটওয়ারী, অধ্যক্ষ সফিকুল আলম হেলাল। জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট মোঃ মাসুদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হোসাইন।

শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন মুহাদ্দিস আবু নসর আশরাফী।

Model Hospital

জামায়াতের রুকনদের উদ্দেশ্য এটিএম মাসুম বলেন, রুকনগন হলেন জামায়াতের ফিলার। তাদের ভূমিকার উপর নির্ভর করছে এদেশের ইসলামী বিপ্লব। জামায়াতে অগ্রগতিতে সরকার ও ইসলাম বিরোধী মহল নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের জনপ্রিয়তায় আশান্বিত হয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের আশা আকাংখা ও প্রত্যাশা পূরনে সরকার ব্যার্থ হয়েছে। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করার নিল নক্সা করছে সরকার। এ অবস্থা জনগন কখনো মেনে নিবে না।

শিক্ষা শিবিরের ব্যবস্থপনায় দায়িত্ব পালন করেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মোঃ হারুন আর রশিদ, শহর আমীর এডভোকেট মোঃ শাহজাহান খান, মোহাম্মদ হোসেন, নাসির উদ্দীন, মোঃ রুহুল আমীন, মোঃ শাহ আলম, মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী। রুকন শিক্ষা শিবিরে জামায়াতের সকল পর্যায়ের রুকনগন উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’