শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মাদক কারবারিদের আইনের ফাঁক গলে রক্ষা পেতে দেওয়া হবে না : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৭ পিএম
মাদক কারবারিদের আইনের ফাঁক গলে রক্ষা পেতে দেওয়া হবে না : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, আগের তুলনায় মাদক বেচাকেনা কিছুটা কমেছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, কোনো মাদক কারবারি যেন আইনের ফাঁক গলে রক্ষা না পায়। মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি, যাতে অভিযান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়নভিত্তিক খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহার করে কেউ যাতে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

Model Hospital

এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে ফসলি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। মাছের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন এলজিইডি চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি, সদর নৌ থানার এসআই সুবল এবং চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. বিশির উল্লাহ খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রাহাত আমিন পাটোয়ারী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন রায়, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন সাগর, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’