শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার মাত্র তিন দিনের মাথায় সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় : অ্যাড. শাহজাহান মিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার মাত্র তিন দিনের মাথায় সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় : অ্যাড. শাহজাহান মিয়া

দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক চর্চার অবসান ঘটিয়ে এই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রে নতুন এক ভারসাম্য তৈরির তাগিদ দিয়েছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা চর্চা, সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের চাপ হিসেবে কাজ করবে।

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়। ওই দিন তৎকালীন সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরদিন ১ আগস্ট কার্যকর করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরের মাত্র তিন দিনের মাথায় গণআন্দোলনের মুখে সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে গতকাল ৩১ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড মসজিদে গোরে গরিবায় চাঁদপুর শহর জামায়ের উদ্যোগ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া।

চাঁদপুর শহর জামায়ের আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খানের সভাপত্বিতের অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাস স্ট্যান্ড গোরে গরিবা মসজিদের নতুন খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মাকসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ শত শত মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করেন।

Model Hospital

এসময় অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া আরো বলেন, বলেন, ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী নয় এবং জনগণের সম্মতি ছাড়া শাসন চালানো সম্ভব নয় এই বার্তা এই অভ্যুত্থান স্পষ্ট করেছে। ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, যা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেবে। আমরা জুলাই আন্দোলনে শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের আরোগ্য কামনা করছি।

শহর জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খান বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব রূপ পেয়েছে।

প্রথাগত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে তরুণদের নাগরিক দাবি আদায় ও রাষ্ট্র সংস্কারে ভূমিকা রাখার এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে নীতি-নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণকে অপরিহার্য করে তুলবে।

আইনের শাসন ও সুশাসনের ঘাটতি কাটাতে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার ওপর নতুন করে জোর তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার যে দাবি উঠেছে, তা ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’