শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠনের মেডিকেল ক্যাম্প

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
কচুয়া পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠনের মেডিকেল ক্যাম্প

কচুয়ায় পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত।

কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী এক বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) পূর্ব মনপুরা সংগঠনের কার্যালয়ে  ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয়দের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়।
জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করেন কুমিল্লা মেঘনা জেনারেল হসপিটালের পরিচালক মোঃ মহিন উদ্দিন। ক্যাম্প শুরু হওয়ার পর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে উপস্থিত হন।
বিশেষ করে শিশু, নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগা রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে উপকৃত হন। এসময় পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, প্রধান নির্বাহী পরিচালক মাওলানা মোঃ রাসেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা হুমায়ুন কবির,আল আমিন, চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক ডা.মনিরুজ্জামান মহাসিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ করতে ছিলেন।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান জানান, কুমিল্লা মেঘনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মহিন উদ্দিনের সহযোগিতায়  এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং শতাধিক মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও ডেন্টাল চিকিৎসা সেবা পরামর্শ দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে শিশু, নারী ও প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের মধ্যে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কুমিল্লা মেঘনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোঃ মহিন উদ্দিন জানান,পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠনের এলাকায় জনকল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। এই সংগঠনটি প্রতি বছরে  বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পাশাপাশি এই মানবিক আয়োজন করে থাকেন।
উল্লেখ্য, পূর্ব মনপুরা আল-ইহসান সামাজিক সংগঠন  সমাজ কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’