শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে এসএসসিতে পাস ৫৭.৬৮%, দাখিলে ৫৬.০৫, ভোকেশনালে ৭৪.৬৩ শতাংশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
শাহরাস্তিতে এসএসসিতে পাস ৫৭.৬৮%, দাখিলে ৫৬.০৫, ভোকেশনালে ৭৪.৬৩ শতাংশ
শাহরাস্তিতে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাফল্য ও ব্যর্থতার বৈচিত্র্যপূর্ণ চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ মাধ্যমিকে পাসের হার ৫৭.৬৮ শতাংশ, দাখিলে ৫৬.০৫ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষায় ৭৪.৬৩ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায় দুটি মাদ্রাসায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও একটি মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ৮ জনের কেউই পাস করতে পারেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, শাহরাস্তির ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯৩ জন। পাসের হার ৫৭.৬৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৯২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় ও সূচীপাড়া গোলাম কিবরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ জন করে এবং নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও মেহার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হারে ভালো করেছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৫.৪৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানের ৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৮১.৯৫ শতাংশ, মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০.৬০ শতাংশ এবং খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯.১০ শতাংশ। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল তুলনামূলক দুর্বল হয়েছে।
বেরনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২০ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৫.০৯ শতাংশ। মৌলভী আকরাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪ জনের মধ্যে ১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাসের হার ৩৫.২৯ শতাংশ।
ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৫ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৬.৮৪ শতাংশ। বলশীদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৯.৩৪ শতাংশ।
দাখিলে পাস ৫৬.০৫ শতাংশ দাখিল পরীক্ষায় শাহরাস্তির ২১টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৭৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪১৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩২৭ জন। পাসের হার ৫৬.০৫ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। দাখিলে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ও আলহাজ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ২৬ জন এবং আলহাজ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ১৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া দৈয়ারা দারুস সুন্নাত মবিনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৮২.৮৬ শতাংশ, চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮২.০৫ শতাংশ এবং যাদবপুর মুজিবুর রহমান মৃধা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৭৮.৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে দশনাপাড়া মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। ফলে পাসের হার শূন্য শতাংশ। টামটা দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৩৪.৭৮ শতাংশ এবং মাদরাসাতুল নববী খামপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৪.৬২ শতাংশ।
ভোকেশনালে পাস ৭৪.৬৩ শতাংশ
উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ এবং ১৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৭৪.৬৩ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ৩৬ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৫ শতাংশ। ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৪.১৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ মাধ্যমিক ও দাখিলে পাসের হার যথাক্রমে ৫৭.৬৮ ও ৫৬.০৫ শতাংশ হলেও ভোকেশনালে তা ৭৪.৬৩ শতাংশ। একই সঙ্গে কোথাও শতভাগ সাফল্য, আবার কোথাও ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি এমনকি শূন্য শতাংশ পাসের চিত্রও রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানে ফল আশানুরূপ হয়নি, সেগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া হলে আগামীতে ফল আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’