শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত

শাহরাস্তিতে দিনে বন্ধ ভারী ট্রাক, চলবে রাত ৯টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে দিনে বন্ধ ভারী ট্রাক, চলবে রাত ৯টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্ঘটনা রোধ ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলার প্রধান সড়কে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং মালবাহী ভারী ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সভায় শাহরাস্তি উপজেলা ও চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা, ভারী যানবাহন ও ছোট পরিবহনের বেপরোয়া চলাচল, যানবাহনের আইনগত ফিটনেস, ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা কঠিন হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অকাল মৃত্যু অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। গণপরিবহন, বিশেষ করে মালবাহী ডাম্প ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশাসহ ছোট-বড় যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও ফিটনেস নিশ্চিত এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসন একা কাজ করলে হবে না। পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক, মালিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা, অকাল মৃত্যু ও জনভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সমবেদনা জানিয়ে ইউএনও বলেন, যারা আপনজন হারিয়েছেন, তারাই এ কষ্ট সবচেয়ে বেশি বোঝেন। ভবিষ্যতে যাতে এভাবে আর কোনো প্রাণ ঝরে না যায়, সে জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন কাজ করবে।
আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দিন থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মালবাহী ভারী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শুধু রাত ৯ টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত ওই যান চলাচল করতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সভায় ট্রাফিক আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের টিআই মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, সড়কের যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও দুর্ঘটনা রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানিতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
সভায় শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ট্রাফিক পুলিশের টিআই মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী মইনুল ইসলাম কাজল, মোঃ মাসুদ রানা, ফয়েজ আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রমিক পক্ষের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’