শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুর ইউপিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠিত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ এম
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুর ইউপিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠিত
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকনের বদলিজনিত বিদায় এবং নবাগত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেনকে বরণ করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হলরুমে এ বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকন বলেন, দীর্ঘদিন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে সকলের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। কাজ করতে গিয়ে আমার কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তিনি নবাগত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেনকেও পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পরে তিনি দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।
অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং ইউপি সদস্য মোঃ কবির হোসেন রনির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, নবাগত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন, পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ ফয়সাল আবেদীন ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন, সোহাগ পাটোয়ারী সোহেল, ইব্রাহিম তালুকদার, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম, লাকি বেগম ও মুক্তা বেগম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহাবুব গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন পাটওয়ারী নয়ন, ইউডিসি উদ্যোক্তা ইলিয়াছ বেপারী মিঠু, সমাজসেবক মোঃ আশ্রাফ পাটোয়ারী এবং মহামায়া বাজারের ক্রিয়েটিভ ডিজিটাল সাইন এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদির।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য জিয়া তপাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশেক এলাহী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুর আলম গাজী, ইউডিসির সুমি আক্তার, গ্রাম পুলিশ দফাদার নুরুল ইসলাম, ট্যাক্স কালেক্টর রাকিব হোসেনসহ গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিদায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকনকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বিদায় ও নবাগত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেনকে বরন করে নেন ইউপি সদস্যগণ। পরে বিদায়ী কর্মকর্তাকে পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’