শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান হলেন ড. কাবিল খান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ এম
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান হলেন ড. কাবিল খান

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের নতুন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাবিল খান জামিল।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জেএমসি মিডিয়া ল্যাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভাগীয় উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার এবং আজকের পত্রিকার সদ্য সাবেক সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী বিভাগীয় প্রধান ড. আফতাব হোসেন নতুন বিভাগীয় প্রধান ড. জামিল খানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

ড. আব্দুল কাবিল খান জামিলের রয়েছে সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটিতে প্রায় তিন বছর সহকারী লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এ তিন বছরেরও বেশি সময় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ সাড়ে তিন বছর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জেএমসি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষকতায় আসার আগে রাশিয়ায় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা ও পিএইচডি করার সময় ড. জামিল খান দৈনিক প্রথম আলোর মস্কো প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। দেশে ফিরে তিনি প্রথম আলোর মোবাইল সাংবাদিকতা (মোজো) বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (PIB)-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।

Model Hospital

বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. কাবিল খান আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মোজো ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতা ও মিডিয়া বিষয়ে গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। জামিল খান দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অতিথি শিক্ষক হিসেবে লেকচার দিয়ে থাকেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. কাবিল খান বলেন, জেএমসি বিভাগকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।

এদিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর পর বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন ড. আফতাব হোসেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রথমবারের মতো কোনো বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

ড. আফতাব হোসেনের নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে জেএমসি বিভাগ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকতা শিক্ষা বিভাগ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব, একাডেমিক কার্যক্রমের বিস্তৃতি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তার ভূমিকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

বিদায়ী বক্তব্যে ড. আফতাব হোসেন বলেন, জেএসসি বিভাগ আমার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল নয়, এটি আমার নিজের জায়গা। এই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময় আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিভাগ আরও এগিয়ে যাবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।

উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে শিগগিরই বিদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. আফতাব হোসেনের।

দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেতৃত্বে জেএমসি বিভাগ সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।