বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান হলেন ড. কাবিল খান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ এম
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান হলেন ড. কাবিল খান

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের নতুন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাবিল খান জামিল।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জেএমসি মিডিয়া ল্যাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভাগীয় উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার এবং আজকের পত্রিকার সদ্য সাবেক সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী বিভাগীয় প্রধান ড. আফতাব হোসেন নতুন বিভাগীয় প্রধান ড. জামিল খানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

ড. আব্দুল কাবিল খান জামিলের রয়েছে সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটিতে প্রায় তিন বছর সহকারী লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এ তিন বছরেরও বেশি সময় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ সাড়ে তিন বছর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জেএমসি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষকতায় আসার আগে রাশিয়ায় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা ও পিএইচডি করার সময় ড. জামিল খান দৈনিক প্রথম আলোর মস্কো প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। দেশে ফিরে তিনি প্রথম আলোর মোবাইল সাংবাদিকতা (মোজো) বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (PIB)-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।

Model Hospital

বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. কাবিল খান আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মোজো ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতা ও মিডিয়া বিষয়ে গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। জামিল খান দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অতিথি শিক্ষক হিসেবে লেকচার দিয়ে থাকেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. কাবিল খান বলেন, জেএমসি বিভাগকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।

এদিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর পর বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন ড. আফতাব হোসেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রথমবারের মতো কোনো বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

ড. আফতাব হোসেনের নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে জেএমসি বিভাগ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকতা শিক্ষা বিভাগ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব, একাডেমিক কার্যক্রমের বিস্তৃতি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তার ভূমিকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

বিদায়ী বক্তব্যে ড. আফতাব হোসেন বলেন, জেএসসি বিভাগ আমার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল নয়, এটি আমার নিজের জায়গা। এই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময় আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিভাগ আরও এগিয়ে যাবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।

উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে শিগগিরই বিদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. আফতাব হোসেনের।

দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেতৃত্বে জেএমসি বিভাগ সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।