শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নির্বাচনে দপ্তর সম্পাদক পদে আরিফুলের নির্বাচনী অঙ্গীকার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৩ এম
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নির্বাচনে দপ্তর সম্পাদক পদে আরিফুলের নির্বাচনী অঙ্গীকার

ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন-২০২৬কে সামনে রেখে দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ আরিফুল ইসলামের নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন। ব্যবসায়ীদের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

১. ব্যবসায়ীদের ছবি ও মোবাইল নম্বরসহ ডিজিটাল ভোটার তালিকা প্রণয়ন:
ব্যবসায়ীদের ভোটার তালিকা অনলাইনভিত্তিক ও নিয়মিত হালনাগাদ করে সহজে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা।

২. সাপ্তাহিক বন্ধের উদ্যোগ:
ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৩. ব্যবসায়ী কল্যাণ তহবিল গঠন ও শক্তিশালীকরণ:
কোনো ব্যবসায়ী অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কার্যকর কল্যাণ তহবিল গঠন ও শক্তিশালী করা।

Model Hospital

৪. জরুরি চিকিৎসা সহায়তা:
ব্যবসায়ীদের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা এবং একটি কার্যকর রক্তদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

৫. ব্যবসায়ীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি:
সমিতির সকল সদস্যের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে দ্রুত যোগাযোগ ও সেবার ব্যবস্থা করা।

৬. প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম:
ব্যবসা পরিচালনা, কর ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন এবং আইনগত বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মশালার উদ্যোগ নেওয়া।

৭. নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বাজার গড়ে তোলা:
বাজারের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

৮. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
সমিতির কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সদস্যদের কাছে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।

দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি পদকে নয়, দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে চাই। সম্মানিত ব্যবসায়ীদের একটি মূল্যবান ভোট ও আন্তরিক দোয়া আমার পথচলার শক্তি। ইনশাআল্লাহ, কথা নয়—কাজের মাধ্যমে আপনাদের আস্থা অর্জন করতে চাই।”

তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের সকল সম্মানিত ব্যবসায়ীর দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’