শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ এম
কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের প্রসন্নকাপ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রবিবার বিকেলে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা থেকে অব্যাহত পেতে প্রসন্নকাপ গ্রামের টাওয়ার মোড় এলাকায় প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভুক্তভোগী আলম মিয়া বলেন, মানুষের টাকা, জমি দখল আত্মস্বাধকারী ও প্রতারক ফাতেমা,রোশনা কর্তৃক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আজকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। প্রসন্নকাপ গ্রামে গনি মাস্টার বাড়ির শাহজালাল ও মুসলিমের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি আমি ক্রয় করি । মুসলিম মিয়া ৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও শাহজালাল ৬ শতাংশ জমির টাকা নিয়ে এখনও রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।
ওই ১২ শতাংশ জমির উপর আমি দীর্ঘদিন ধরে ছেলে সন্তান নিয়ে ভোগদখলে রয়েছি। জায়গা রেজিস্ট্রি কথা বললে উল্টো বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে শাহজালালের স্ত্রী খাতেমা বেগম আমাদের পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। তার কর্তৃক ৮টি সাজানো মিথ্যা মামলায় আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে যায়।  সবগুলো মিথ্যা মামলা  প্রত্যাহার ও আমার ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিন কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এলাকাবাসীর পক্ষে আলী মিয়া, ইসমাইল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আয়েশা বেগম, রুবেল হোসেন জানান, শাহজালাল ও মুসলিম তাদের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে আলম মিয়া। ওই জমিতে বর্তমান তিনি ভোগদখলে রয়েছে। অযথাই মিথ্যা মামলা দিয়ে আলমে পরিবারকে হয়রানি করে আসছে শাহজালালের স্ত্রী  ফাতেমা বেগম, তার বোন রোশনারা ও ভাতিজা রাশেদা বেগম। তাদের এ মিথ্যা মামলার কারণে আলমে পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে যায়।
তারা আরো জানান, এ বিষয়গুলো নিয়ে এলাকায় সালিশ বিচার করে দিলেও বিচারকদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে ফাতেমা বেগম।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামী ৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক ভাবে আলম মিয়া দখল করে রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমার স্বামীর জায়গার দোকানপাট ভাঙচুর করে নিয়ে যায় এবং বসত বাড়িঘরে হামলা করে। আমার ভাসুরের মেয়ে রাশেদাকে মারধর করে। এ নিয়ে আমি কচুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছি। তারাও আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’