শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মেয়র হই বা না হই

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানব সেবা করে যাবো : মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানব সেবা করে যাবো : মোশারফ হোসাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চাঁদপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন বলেছেন, আমার ৩৮ বছরের রাজনৈতক জীবনে কখনো নিজের দল এবং আদর্শের সাথে বেইমানি করি না। আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পারিবারিক জীবনের আল্লাহ আমাকে যতটুকু সম্পদ দিয়েছেন তাতেই আমি সন্তুষ্ট। এখন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষ এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। এজন্য চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নয়, পৌরবাসীর খাদেম হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।‌ আমি কথা দিচ্ছি, মেয়র হই বা না হই, তাতে কিছুই যায় আসে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি আর মানুষের ভালবাসার জন্য আমি কাজ করে যাবো ইনশাল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রঘুনাথপুর মরহুম হাজী জাফর খান বাড়িতে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মোশারফ হোসাইন আরও বলেন, আমি বিএনপি’র একজন সাধারণ কর্মী। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন।‌ আমাদের জেলা বিএনপির অভিভাবক এবং সদর আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবও চাঁদপুরকে আধুনি, নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।‌ আমিও এই অগ্রযাত্রার একজন সারথি হতে চাই। এমন একটি চাঁদপুর গড়তে চাই, যেখানে আমরা সবাই এক পরিবারের মত বসবাস করবো।

তিনি বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার নাগরিকরা এখনো অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই আপনাদের দোয়া এবং সমর্থন পেলে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই। আল্লাহ যদি আমাকে কবুল করেন‌ তাহলে কথা দিচ্ছি আপনাদের নাগরিক সেবা এবং সম্মান বৃদ্ধিতে বিজয় সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করব। এজন্য আমি আপনাদের দোয়া সমর্থন এবং ভালোবাসা কামনা করছি। ‌আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং দোয়া আমার পথচলার অনুপ্রেরণা।

Model Hospital

মহিলা নেত্রী শারমিন বেগমের পরিচালনায় উঠান বৈঠকে স্থানীয়, নারী নেত্রী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা অংশ নেন। এ সময় তারা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন ও নারীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’