শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলীতে মাদক ডিলার শান্ত কারী ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
শাহতলীতে মাদক ডিলার শান্ত কারী ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলীতে কুখ্যাত মাদকের ডিলার শান্ত কারী(৩৪)পিতামৃত রহিম কারীকে ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

১৬সেপ্টেম্বর বিকেলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চাঁদপুর মডেল থানার এ এস আই রাসেল তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

মাদক ডিলার শান্ত কারীর গ্রেফতারকে এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়েছে।তার সাথে জড়িত মাদক ডিলারদের ও সেবনকারীদের গ্রেফতারের দাবী উঠছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদ জানান, এলাকাবাসী শান্ত কারী নামের এক মাদক সম্রাটকে শাহতলীতে এলাকাবাসী আটক করে আমাদের খবর দেন। আমরা পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে মাদক ডিলারকে থানায় নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে৷ আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Model Hospital

স্থানীয়রা জানান চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় শান্ত কারী একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সন্ধ্যা নামলেই কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়।

আটক মাদক ব্যবসায়ী মো: শান্ত কারী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান তার সাথে নিন্মোক্ত মাদকের ডিলারের ও সেবনকারীরা জড়িত রয়েছে।

তারা হলেন , মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলার: রাশেদ মিজি (৩৮)পিতামৃত তাজুল মিজি সাং শাহতলী ৪নং শাহমাহমুদপুর চাঁদপুর সদর, সিয়াম (১৫)পিতা: সফিক মাষ্টার গ্রাম:শাহতলী পো: শাহতলী, ৪নং শাহমাহমুদপুর চাঁদপুর সদর, সায়েম (২৫) পিতা: সফিক মাস্টার গ্রাম:শাহতলী পো: শাহতলী ৪নং শাহমাহমুদপুর চাঁদপুর সদর,রাব্বি মিজি(৩০),পিতা: মাও.হামিদ মিজি, গ্রাম: শাহতলী, পো: শাহতলী ৪নং শাহমাহমুদপুর চাঁদপুর সদর, মো: রানা গাজী (৩২) পিতা: ইয়াসিন গাজী গ্রাম: বড় শাহতলী, পো: শাহতলী, ৪নং শাহমাহমুদপুর, চাঁদপুর সদর, সাগর গাজী (২৮), পিতা: খোরশেদ গাজী গ্রাম: শাহতলী, পো:শাহতলী, ৪নং শাহমাহমুদপুর, চাঁদপুর সদর।

উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীরা পেশাদার মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী।এদেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এব্যাপারে চাঁদপুর-৩ এর সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার,চাঁদপুর মডেল থানার ওসি, গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক দ্রব্য অধিদফতরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’