শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

কচুয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার হামলা অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরী বাতাবাড়িয়া গ্রামের ফকির বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ওই বাড়ির দিদার হোসেনের বাড়িতে মাদকের অভিযান দিতে প্রবেশ করে । পরে পাশের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় মাদক কারবারিরা পুলিশের এএসআই শহিদুল ইসলামের  ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলার মুখে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটে বলে জানান স্থানীয়রা। পরে এএসআই শহিদুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়।
হামলার শিকার এএসআই শহিদুলও তার ওপর হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গেলে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত আমার মাথায় টস লাইট দিয়ে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল ফোন ফেলে যায় মাদক কারবারিরা। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ওই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনার পরও যদি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এলাকায় মাদক কারবার আরও উৎসাহিত হতে পারে।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ আরো জানান, আইনগিরী ও বাতাবাড়িয়া গ্রামে মাদক বিরোধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মাদক বিরোধী সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা ও সাংবাদিক ও এলাকাবাসীসহ সকলের উপস্থিতিতে মাদকের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর নিয়ে  চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এরশাদ হোসেন,সাইদুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, তার ছেলে নাবিল হোসেন,মা ওজুফা খাতুন, মাসুদ ও আলমগীর হোসেনসহ আরো অনেকের নাম উল্লেখ করা হয় । পরবর্তীতে তাদের নাম লিস্ট করে কচুয়া থানা জমা দেওয়া হয়েছে।
দুঃখের বিষয় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কচুয়া থানার পুলিশ। এমনকি তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন, তাদের ছত্রছায়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা বরুড়া থেকেও ফেনসিডিল ইয়াবা ও গাজা এনে এই গ্রামে ক্রয়বিক্রয় করছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আজিজুল ইসলাম বলেন,  তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’