শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় মাসুদ রানা মিয়াজী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় মাসুদ রানা মিয়াজী
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের  সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দলের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মাসুদ রানা মিয়াজি। তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা কামনা করেছেন।
তাকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ মাসুদ রানা মিয়াজী দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা,দলকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন।
এ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা,সামাজিক কার্যক্রম ও মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও মনে করেন,তিনি ইউপি নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। তাদের ভাষ্য, মাঠ পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
মাসুদ রানা মিয়াজী  ওই ইউনিয়নের বক্সগঞ্জ গ্রামের মৃত মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট।
 তিনি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি শুরুতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবীর অনুগত হয়ে রাজনীতি করে আসছেন।
রাজনৈতিকভাবে  ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ রানা মিয়াজী বিগত আওয়ামী লীগের ১৭ বছর শাসনামলে ৩২টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, অসংখ্যবার কারাবরণ।  আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় একাধিকবার মৃত্যু থেকে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়াও তাঁকে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কয়েকবার ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করেছেন।
মাসুদ রানা মিয়াজী ছাত্র জীবনে ভূঁইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি, পালাখাল মডেল ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক,পালাখাল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন।
কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন। এছাড়াও কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে চাঁদপুর জেলার জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দলের সভাপতি পদে দায়িত্ব রয়েছেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মাসুদ রানা মিয়াজী বলেন,   ইউনিয়ন বাসী ও এলাকার সকল লোকজনের অনুরোধে এই ইউনিয়নে সেবা করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছি। প্রথমে আমাদের ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা দুর্নীতিমুক্ত ও সহজলভ্য করা, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।
মাসুদ রানা মিয়াজী ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারলে তিনি একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’