শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পুকুরের পাড় না থাকায় ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার ১০০ ফুট সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ল
শাহরাস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার বাউন্ডারি ওয়ালের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে পড়েছে। পাশের পুকুরের পাড় না রাখায় সীমানা প্রাচীরের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে দেয়াল ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে।সকালে ওই সংবাদ চাউর হতেই ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনের পক্ষে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন মিয়াজীসহ গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশে বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে পাশের জমির মালিক মো. আব্দুল মান্নান পুকুর খনন করেন। খননের সময় মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীরের খুব কাছাকাছি পুকুর খনন করা হয়। পুকুরের পাশে পর্যাপ্ত পাড় না থাকায় ধীরে ধীরে বাউন্ডারি ওয়ালের নিচের মাটি সরে যেতে থাকে।

এতে ওয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এর একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলওয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আলোচনা, অনুরোধ ও নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালেও মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইব্রাহীম খলিলের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনেও বাউন্ডারি ওয়াল ঝুঁকিপূর্ণ থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন তদন্তকালে মাদ্রাসার বাউন্ডারির উত্তর-পূর্বাংশে ওয়াল সংলগ্ন অপর পাশে আব্দুল মান্নানের মালিকানাধীন জমিতে যথাযথ পাড়বিহীন একটি পুকুর পাওয়া যায়। পুকুরের পাড় না থাকায় বাউন্ডারি ওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং যে কোনো সময় ওয়ালটি পুকুরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তদন্তের সময় আব্দুল মান্নানকে ওয়াল রক্ষায় পুকুরের পাড় বা বাঁধ নির্মাণের জন্য বলা হলে তিনি ২০ দিনের সময় চান। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় আড়াই মাস পরও পুকুরের পাড় নির্মাণ করা হয়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাউন্ডারি ওয়াল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত দেয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
দেয়াল ধসে পড়ায় মাদ্রাসার অবকাঠামো, মূল্যবান সরঞ্জাম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাকি অংশ নিরাপদ করা এবং সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এদিকে এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন জানান, সৃষ্ট ঘটনা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে হাজী মফিজ উদ্দিন (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩৮৭ শিক্ষার্থী এবং ৫২ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ২ একর ৬৫ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। কামিলের চারটি বিভাগ, নূরানী ও হেফজ বিভাগসহ বিভিন্ন শাখা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল ও অনার্স কেন্দ্রও রয়েছে এবং কামিল-মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম এমপিওভুক্ত।





