শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় উত্তর ডুমুরিয়া সপ্রাবিতে বার্ষিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
কচুয়ায় উত্তর ডুমুরিয়া সপ্রাবিতে বার্ষিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন অতিথিবৃন্দরা

​​”মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করি, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়ার ৬৪নং উত্তর ডুমুরিয়া ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

​বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব মো: এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর জজ কোর্টের শিক্ষানিবাস আইনজীবী মো: ইব্রাহিম ও প্রকৌশলী কাউছার আহমেদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক সমন্বয়কারী প্রফেসর আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার বলেন, আজকের শিশুরা আগামীর স্মার্ট ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাই কেবল পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করিয়ে নয়, বরং তাদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

​তিনি আরও বলেন, একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা সফল করার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মায়েরা। মায়েরা যদি সচেতন হন, তবে সন্তানের পড়ালেখা এবং চরিত্র গঠন শতভাগ নিশ্চিত হয়। আজকের এই মা সমাবেশ প্রমাণ করে যে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত সচেতন।

Model Hospital

​বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ​বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবু জাফর মিয়াজী ও মোস্তাফিজুর রহমান,​কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, ​বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক বোরহান উদ্দিন মজুমদার ও মোঃ দ্বীন ইসলাম খন্দকার।

​অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল খান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মোশাররফ হোসেন, আব্দুর রহিম, শাহাদাত হোসেন মৃধা, সহকারী শিক্ষক নাঝরিন সুলতানা, মাসুদ মিয়াজী এবং ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, ছাত্রদল নেতা মো: নুরুল আমিন প্রমুখ।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে মায়েদের সচেতনতা ও অসামান্য ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি দরবেশগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুরোধ করেন।

আলোচনা সভা শেষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

​অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।