শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের নবীন বরণ

সময়ের সঠিক ব্যবহার করে মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগান : ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
সময়ের সঠিক ব্যবহার করে মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগান : ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া

শাহরাস্তিতে চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির উদ্বোধনী ক্লাস ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কলেজ শাখার আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। এতে ১৪২ নবীন শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কলেজ শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো. শাহ্ জামাল ও শিক্ষিকা সোনিয়া আক্তার যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পড়াশোনার প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার সুযোগ থাকবে।

Model Hospital

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ১৪২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় শেষ করে তারা এখন উচ্চমাধ্যমিকের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ সময়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে ১২তম অবস্থান অর্জন করেছে। এ অর্জন ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কলেজ পরিচালনায় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,চেড়িয়ারা স্কুল শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজির আহমেদ বিএসসি,ধামরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস হোসেন, সাবেক সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, সাবেক বৃহত্তর সূচিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবদুল মান্নান ষষ্ঠী, কলেজ ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. তাফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, সমাজসেবক ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাসেল হোসেন, শোরসাক যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার।কলেজের সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আবু ইউসুফ খান, বাংলা বিভাগের প্রভাষক নার্গিস সুলতানা, জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মামুনুর রশীদ, গণিত বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, কলেজের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমাজসেবক নূরুল আলম সোহাগ ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি মাদক, নেশা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, নৈতিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। একে একে ১৪২ নবীন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত পরিবেশন করলে মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করানোর পর দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৪২ শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলে তারা ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।