বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের নবীন বরণ

সময়ের সঠিক ব্যবহার করে মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগান : ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
সময়ের সঠিক ব্যবহার করে মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগান : ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া

শাহরাস্তিতে চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির উদ্বোধনী ক্লাস ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কলেজ শাখার আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। এতে ১৪২ নবীন শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কলেজ শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো. শাহ্ জামাল ও শিক্ষিকা সোনিয়া আক্তার যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পড়াশোনার প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার সুযোগ থাকবে।

Model Hospital

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ১৪২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় শেষ করে তারা এখন উচ্চমাধ্যমিকের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ সময়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে ১২তম অবস্থান অর্জন করেছে। এ অর্জন ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কলেজ পরিচালনায় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,চেড়িয়ারা স্কুল শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজির আহমেদ বিএসসি,ধামরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস হোসেন, সাবেক সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, সাবেক বৃহত্তর সূচিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবদুল মান্নান ষষ্ঠী, কলেজ ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. তাফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, সমাজসেবক ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাসেল হোসেন, শোরসাক যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার।কলেজের সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আবু ইউসুফ খান, বাংলা বিভাগের প্রভাষক নার্গিস সুলতানা, জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মামুনুর রশীদ, গণিত বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, কলেজের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমাজসেবক নূরুল আলম সোহাগ ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি মাদক, নেশা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, নৈতিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। একে একে ১৪২ নবীন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত পরিবেশন করলে মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করানোর পর দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৪২ শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলে তারা ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ

সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসার বার্ষিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন।

চাঁদপুর শহরের আদশ্য বিদ্যাপীঠ আনোয়ারা -মতিউর মডেল মাদরাসায় বার্ষিক ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী জিটি রোড উত্তর এলাকাস্থ মাদরাসা মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন। তিনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা অর্জন করতে ইসলাম তাগিদ প্রদান করেছেন। আর সেই আলোকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জন করি— তাহলে সেটা হবে নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য। সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রমিত বৃথা যাবে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বাবা মাকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। পাশাপাশি তারা যেন এমন শিক্ষা পায়, যা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

তিনি বলেন, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে ১৫নং ওয়ার্ড উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। তার সাথে লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে। বিশেষ করে জিটি রোড উত্তর এলাকার মানুষের জীবন যাপন দেখলে বুঝা যায়, তারা রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা থেকে কতটা পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয় এখানকার নাগরিকদের শুধুমাত্র ভোট আর ট্যাক্সের জন্য পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পৌরসভার সেবা দিতে নয়। আপনাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে, আগামীতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অনেক বেশি সর্তককে এবং দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন ব্যক্তিকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন, যিনি সত্যিকার অর্থে আপনার আমানতের প্রতিদান দিবে।

আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, সমাজকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর সেই শিক্ষাটা হতে হবে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা। বর্তমানে চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব কিশোরগ্যাং ও মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এমনসব সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে নানাবিধ উদ্যোগ গ্ৰহণ করছেন। আমাদের সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজী তার বাবা মায়ের নামে জিটি রোড এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন‌‌। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এজন্য আমার পক্ষ থেকে মাওলানা মোঃ আবদুর রহমানসহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Model Hospital

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সুমন খান ও দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল হক বেপারী।

মাদরাসার শিক্ষক মহিবুর রহমান মহিব্বুলাহর সঞ্চালনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাদরাসার শিক্ষক মোঃ রাশেদ হোসেন, মোঃ আঃ ছাত্তার খাঁন ও আব্দুল আলী আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ( গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য)  আশিক বিন রহিম, এলাকার মুরব্বি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ মিজানুর রহমান মিজি, মোঃ লোকমান হোসেন তালুকদার, মাদরাসার শিক্ষক মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ জসিম উদ্দিন ও বোরহান সাইফ।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও কবিতা আবৃতিতে শ্রেণীভিত্তিক অংশ নেন। বিজয়ীদের আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বাদ মাগরিব পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অভিভাবক সমাবেশ শেষে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন।