বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কলহে প্রবাসী ভাইয়ের বসতঘর ভাঙচুর

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কলহে প্রবাসী ভাইয়ের বসতঘর ভাঙচুর

ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কলহের ভাই ঘরের ভাংচুরের অভিযোগ।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৌদিফেরত এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের আপন প্রবাসী ভাইয়ের বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কুড়াল দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আইটপাড়া বেপারী বাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আইটপাড়া বেপারী বাড়ীর প্রবাসী মাসুদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর মেজ ভাই দেশে ফিরে আসা প্রবাসী মাহবুব আলমের দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সবাই যখন ঘুমিয়েছিলেন, তখন মাহবুব কুড়াল হাতে নিয়ে বড় ভাই মাসুদের ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জানালার থাই গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকেন। ভাঙচুরের বিকট শব্দ শুনে মা-বাবা ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
অভিযুক্ত মাহবুবের বাবা আব্দুর রহিম জানান, আমার তিন ছেলের মধ্যে দুজন বিদেশে থাকে। মেজ ছেলে মাহবুবও দীর্ঘদিন বিদেশে ছিল। মানসিক অসুস্থতা ও ভাইদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সে একেবারেই দেশে চলে এসেছে। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সে কুড়াল দিয়ে বড় ছেলের ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে থাই গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনা থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের ছোঁড়া ইটের আঘাতে সে কিছুটা আহত হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাহবুব আলম বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করে সব টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ভাইদেরও বিদেশে নিয়েছি। কিন্তু তারা বিদেশের দোকান দখল করে আমাকে নিঃস্ব করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বানিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমনকি তিন দিন আগে বড় ভাই তাঁর ভাড়াটে লোক দিয়ে সাহার বাজারে আমাকে বেধড়ক মারধর করিয়েছে। রাগে ও ক্ষোভে আমি ঘরে ভাঙচুর চালিয়েছি।
এদিকে প্রবাসী মাসুদ হোসেন মুঠোফোনে তাঁর ভাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহবুব আমার কাছে কোনো টাকা পায় না এবং তাকে মারধরের অভিযোগও পুরোপুরি মিথ্যা। কোনো কারণ ছাড়াই সে আমার ঘরের তালা ভেঙে থাই গ্লাস, ফার্নিচার ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করেছে। আমার স্ত্রী-সন্তান বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করছি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এ.এস.আই বেলায়েত হোসেন জানান, জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। মাসুদ এর স্ত্রীকে বলেছি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য।  এখন পর্যন্ত কেহই কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।