শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রেজিস্ট্রি অফিসে কার দাপট?

ফরিদগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সিন্ডিকেটে সেবা জিম্মি, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ফরিদগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সিন্ডিকেটে সেবা জিম্মি, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি

ফরিদগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিস।

সরকারি অফিস। অথচ সেখানে সেবা নিতে গিয়ে যদি জনগণকেই বারবার ঘুরতে হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে?
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে এমনই নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলিল লেখক সমিতির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে স্বাভাবিক দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে জমি-জমা সংক্রান্ত কাজে আসা সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসে দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম না হওয়ায় অনেককেই একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ।
ফরিদগঞ্জ একটি প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা। জমি-জমা সংক্রান্ত কাজে দেশের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসতে হয়। দলিল রেজিস্ট্রেশন, তল্লাশি ও নকল সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা এসব মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন,একটি সরকারি অফিসে কোন দিন দলিল রেজিস্ট্রেশন হবে, আর কোন দিন হবে না, এ সিদ্ধান্ত কি সরকারি বিধি অনুযায়ী হওয়ার কথা, নাকি দলিল লেখকদের সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভর করবে?
দলিল লেখক সমিতির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসে দলিল রেজিস্ট্রেশন হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে তাদের সময়ের সংকট হয়।
তাদের ভাষ্য, খাজনা, নামজারি ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি দলিলের টাইটেল প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিদিন দলিল হলে কাজের চাপ বেড়ে যায়।
তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেন, নিয়মিত দলিল রেজিস্ট্রেশন হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন এবং সাব-রেজিস্ট্রারের ওপরও কাজের চাপ কমবে।।এখানেই উঠছে প্রশ্ন?  জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হবে, নাকি একটি সংগঠনের সদস্যদের কাজের সুবিধা বিবেচনায় সরকারি সেবা সীমিত থাকবে?
ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি। প্রতিবেদকের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের। অফিসের মোহরার মামুনও টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে এই টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, এটি সরকারি নির্ধারিত ফি কি না এবং এর কোনো বৈধ রসিদ দেওয়া হয় কি না,এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। যদি সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অর্থ আদায় হয়ে থাকে, তাহলে সেটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। মেসেজ পাঠিয়েও সাক্ষাৎকারের জন্য যোগাযোগ করা হয়।।পরে সরাসরি অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. আকবর আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে মানুষকে এখানে আসতে হয়। ফলে নির্ধারিত কর্মদিবসে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী ফি আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো বেসরকারি সংগঠন বা ব্যক্তি সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে কি না, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কী এবং নির্ধারিত কর্মদিবসে সেবা কার্যক্রম সীমিত রাখার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সরকারি রেজিস্ট্রি অফিস কি জনগণের সেবার জন্য, নাকি কোনো ‘সিন্ডিকেটের’ সুবিধার জন্য? অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি ফি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।