বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রেজিস্ট্রি অফিসে কার দাপট?

ফরিদগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সিন্ডিকেটে সেবা জিম্মি, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ফরিদগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সিন্ডিকেটে সেবা জিম্মি, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি

ফরিদগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিস।

সরকারি অফিস। অথচ সেখানে সেবা নিতে গিয়ে যদি জনগণকেই বারবার ঘুরতে হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে?
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে এমনই নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলিল লেখক সমিতির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে স্বাভাবিক দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে জমি-জমা সংক্রান্ত কাজে আসা সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসে দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম না হওয়ায় অনেককেই একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ।
ফরিদগঞ্জ একটি প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা। জমি-জমা সংক্রান্ত কাজে দেশের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসতে হয়। দলিল রেজিস্ট্রেশন, তল্লাশি ও নকল সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা এসব মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন,একটি সরকারি অফিসে কোন দিন দলিল রেজিস্ট্রেশন হবে, আর কোন দিন হবে না, এ সিদ্ধান্ত কি সরকারি বিধি অনুযায়ী হওয়ার কথা, নাকি দলিল লেখকদের সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভর করবে?
দলিল লেখক সমিতির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসে দলিল রেজিস্ট্রেশন হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে তাদের সময়ের সংকট হয়।
তাদের ভাষ্য, খাজনা, নামজারি ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি দলিলের টাইটেল প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিদিন দলিল হলে কাজের চাপ বেড়ে যায়।
তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেন, নিয়মিত দলিল রেজিস্ট্রেশন হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন এবং সাব-রেজিস্ট্রারের ওপরও কাজের চাপ কমবে।।এখানেই উঠছে প্রশ্ন?  জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হবে, নাকি একটি সংগঠনের সদস্যদের কাজের সুবিধা বিবেচনায় সরকারি সেবা সীমিত থাকবে?
ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি। প্রতিবেদকের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের। অফিসের মোহরার মামুনও টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে এই টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, এটি সরকারি নির্ধারিত ফি কি না এবং এর কোনো বৈধ রসিদ দেওয়া হয় কি না,এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। যদি সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অর্থ আদায় হয়ে থাকে, তাহলে সেটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। মেসেজ পাঠিয়েও সাক্ষাৎকারের জন্য যোগাযোগ করা হয়।।পরে সরাসরি অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. আকবর আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে মানুষকে এখানে আসতে হয়। ফলে নির্ধারিত কর্মদিবসে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী ফি আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো বেসরকারি সংগঠন বা ব্যক্তি সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে কি না, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কী এবং নির্ধারিত কর্মদিবসে সেবা কার্যক্রম সীমিত রাখার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সরকারি রেজিস্ট্রি অফিস কি জনগণের সেবার জন্য, নাকি কোনো ‘সিন্ডিকেটের’ সুবিধার জন্য? অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি ফি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।