বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

শাহরাস্তিতে কৃষকদের মাঝে ৬৭টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
শাহরাস্তিতে কৃষকদের মাঝে ৬৭টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ
কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় কৃষক গ্রুপের মাঝে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মো: সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের হাতে মোট ৬৭টি যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি বেড প্ল্যান্টার, ৯টি পাওয়ার থ্রেসার, ৮টি রিপার, ৪টি ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, ৯টি এলএলপি ও ফিতা পাইপ, ৯টি ফুট পাম্প এবং ২৪টি হ্যান্ড স্প্রেয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরা খাতুন বলেন, “কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। কৃষকের শ্রম ও ঘামের ওপর ভর করেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা টিকে আছে। সেই কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “এসব যন্ত্র ব্যবহারে বীজ বপন, ফসল কাটা, মাড়াই, সেচ ও বালাইনাশক স্প্রের কাজ দ্রুত ও কম খরচে করা সম্ভব হবে। এতে সময় ও শ্রম বাঁচবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে।”
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রপাতি সরকারের সম্পদ, যা আপনাদের সবার কল্যাণে দেওয়া হয়েছে। এগুলো যত্নের সঙ্গে ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। গ্রুপের প্রত্যেক সদস্য যেন পালাক্রমে যন্ত্রের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ শাহরাস্তির কৃষিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো: সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি কৃষক গ্রুপের মাঝে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাবে।” তিনি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ফলন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
যন্ত্রপাতি পেয়ে উপকারভোগী কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যথাযথভাবে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: আবু কালাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: রেজাউল হাসান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইউনুস পাটোয়ারী, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার শ্রীবাস চন্দ্র দাস, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: মকবুল হোসেন ও মোহাম্মদ আল আমিন।
উপজেলার অন্যান্য উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, কৃষক-কৃষাণী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।