বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া উপজেলা জুড়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক, ভূমিদস্যুদের কাছে কৃষকরা জিম্মি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
কচুয়া উপজেলা জুড়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক, ভূমিদস্যুদের কাছে কৃষকরা জিম্মি

কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক।

কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতায় হুমকির মুখে পড়েছে বিপুল সংখ্যক কৃষি জমি। সরকারি খালসহ কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে গভীর করে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মহল।

এ নিয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে এখনো প্রতিকার মেলেনি তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে স্থানীয় ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে তেতৈয়া, জলা তেতৈয়া, এলাকায় ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যুরা। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নের সিংড্ডা,বরুচর,লতিফপুর ও নাহার এলাকাসহ ১০টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে ।

সাচার ইউনিয়নের বজরীখোলা, রাগদৈল, বায়েকের মোড়, নয়াকান্দি এলাকাসহ ওই ইউনিয়নে প্রায় ১৫ টির অধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যু চক্রটি । পাথৈর ইউনিয়নের হাটমোড়া,বেরকোটা,পাথৈর এলাকায় ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।

Model Hospital

বিতারা ইউনিয়নের দূর্গাপুর, বাইছারা,ঘুগড়া বিল,বাতাপুকুড়িয়া, শিলাস্থান, টেলি, নিন্দিপুর, বুধুন্ডা ও মাঝিগাছাসহ ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ১২ টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে বালু উত্তোলন করে আসছে ভূমিদস্যুরা।

এছাড়াও পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দোয়াটি, আইনপুর ও সফিবাদ, ভূঁইয়ারা, বক্সগঞ্জ, বাইচায়া, পালাখালা ও আশারকোটাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।

কড়ইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া নাছিরপুর,বাসাবাড়িয়া ও হায়াতপুর,সাহেদাপুর অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন কয়েকটি চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে ৫০টি অধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। প্রশাসনিকভাবে নিষেধ থাকলেও আইন অমান্য করে তাঁরা সর্বত্র এই কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না । প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ দিলে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক সময় দেখা যায় কিছু নামধারী সাংবাদিক,পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তিদেরকে ম্যানেজ করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন গুলো চালাচ্ছে।

কৃষকরা। জানান, এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার অভিযুক্তদের এ কাজে বাধা দিলেও তারা উল্টো কৃষি জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে আসছে। তারা কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, এ ধরনের কাজে সম্পৃক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুতই অভিযান চালিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।