বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়া উপজেলা জুড়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক, ভূমিদস্যুদের কাছে কৃষকরা জিম্মি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
কচুয়া উপজেলা জুড়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক, ভূমিদস্যুদের কাছে কৃষকরা জিম্মি

কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক।

কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতায় হুমকির মুখে পড়েছে বিপুল সংখ্যক কৃষি জমি। সরকারি খালসহ কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে গভীর করে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মহল।

এ নিয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে এখনো প্রতিকার মেলেনি তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে স্থানীয় ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে তেতৈয়া, জলা তেতৈয়া, এলাকায় ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যুরা। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নের সিংড্ডা,বরুচর,লতিফপুর ও নাহার এলাকাসহ ১০টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে ।

সাচার ইউনিয়নের বজরীখোলা, রাগদৈল, বায়েকের মোড়, নয়াকান্দি এলাকাসহ ওই ইউনিয়নে প্রায় ১৫ টির অধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যু চক্রটি । পাথৈর ইউনিয়নের হাটমোড়া,বেরকোটা,পাথৈর এলাকায় ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।

Model Hospital

বিতারা ইউনিয়নের দূর্গাপুর, বাইছারা,ঘুগড়া বিল,বাতাপুকুড়িয়া, শিলাস্থান, টেলি, নিন্দিপুর, বুধুন্ডা ও মাঝিগাছাসহ ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ১২ টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে বালু উত্তোলন করে আসছে ভূমিদস্যুরা।

এছাড়াও পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দোয়াটি, আইনপুর ও সফিবাদ, ভূঁইয়ারা, বক্সগঞ্জ, বাইচায়া, পালাখালা ও আশারকোটাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।

কড়ইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া নাছিরপুর,বাসাবাড়িয়া ও হায়াতপুর,সাহেদাপুর অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন কয়েকটি চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে ৫০টি অধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। প্রশাসনিকভাবে নিষেধ থাকলেও আইন অমান্য করে তাঁরা সর্বত্র এই কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না । প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ দিলে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক সময় দেখা যায় কিছু নামধারী সাংবাদিক,পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তিদেরকে ম্যানেজ করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন গুলো চালাচ্ছে।

কৃষকরা। জানান, এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার অভিযুক্তদের এ কাজে বাধা দিলেও তারা উল্টো কৃষি জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে আসছে। তারা কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, এ ধরনের কাজে সম্পৃক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুতই অভিযান চালিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।