বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ডিএনসির মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত, ৯ মাসে ১৭৬ আটক, মামলা ১৬১

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম
চাঁদপুরে ডিএনসির মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত, ৯ মাসে ১৭৬ আটক, মামলা ১৬১

চাঁদপুরে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করছেন ডিএনসি চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান। ফাইল ছবি

চাঁদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ১৬১টি মামলা করেছে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব অভিযানে ১৭৬ জন মাদক পাচারকারী ও বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪ হাজার ১৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ কেজি ৩৯৭ গ্রাম গাঁজা, নগদ ৪৮ হাজার ২৫ টাকা, দুটি সিএনজি ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৬ টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযানের পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক সভা, কারাগারে বন্দীদের সংশোধনমূলক কার্যক্রম এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড ও হাট-বাজারে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরা হচ্ছে।

Model Hospital
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার পাশাপাশি লিফলেট, জ্যামিতি বক্স ও কলম বিতরণের মাধ্যমেও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান বলেন, কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীতেই এটি এখন একটি বড় সমস্যা।

তিনি বলেন, মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ক্ষতি হয়। মাদকাসক্তির কারণে একজন ব্যক্তি যেমন নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেন, তেমনি তার পরিবারও নানা সংকটের মধ্যে পড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজেও পড়ে।

মিজানুর রহমান বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কোনো শিক্ষার্থী মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে তার নিজের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের প্রতিহত করতে হবে এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। স্কুল-কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও জরুরি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য: চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান, মাদক উদ্ধার, মামলা ও আসামি আটকের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে সংস্থাটির ধারাবাহিক কার্যক্রম মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শাহরাস্তিতে কৃষকদের মাঝে ৬৭টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
শাহরাস্তিতে কৃষকদের মাঝে ৬৭টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ
কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় কৃষক গ্রুপের মাঝে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মো: সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের হাতে মোট ৬৭টি যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি বেড প্ল্যান্টার, ৯টি পাওয়ার থ্রেসার, ৮টি রিপার, ৪টি ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, ৯টি এলএলপি ও ফিতা পাইপ, ৯টি ফুট পাম্প এবং ২৪টি হ্যান্ড স্প্রেয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরা খাতুন বলেন, “কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। কৃষকের শ্রম ও ঘামের ওপর ভর করেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা টিকে আছে। সেই কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “এসব যন্ত্র ব্যবহারে বীজ বপন, ফসল কাটা, মাড়াই, সেচ ও বালাইনাশক স্প্রের কাজ দ্রুত ও কম খরচে করা সম্ভব হবে। এতে সময় ও শ্রম বাঁচবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে।”
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রপাতি সরকারের সম্পদ, যা আপনাদের সবার কল্যাণে দেওয়া হয়েছে। এগুলো যত্নের সঙ্গে ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। গ্রুপের প্রত্যেক সদস্য যেন পালাক্রমে যন্ত্রের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ শাহরাস্তির কৃষিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো: সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি কৃষক গ্রুপের মাঝে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাবে।” তিনি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ফলন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
যন্ত্রপাতি পেয়ে উপকারভোগী কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যথাযথভাবে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: আবু কালাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: রেজাউল হাসান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইউনুস পাটোয়ারী, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার শ্রীবাস চন্দ্র দাস, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: মকবুল হোসেন ও মোহাম্মদ আল আমিন।
উপজেলার অন্যান্য উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, কৃষক-কৃষাণী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।