শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে যায়যায়দিন পত্রিকার ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুন, ২০২২, ৪:০২ পিএম
হাজীগঞ্জে যায়যায়দিন পত্রিকার ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় বস্তুনিষ্ঠতা, সাহসীকতা, নিরপেক্ষতাকে সঙ্গী করে দেশের পাঠক নন্দিত পত্রিকা দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ১৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। যায়যায়দিন পত্রিকার হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রতিনিধি ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদার এর আয়োজনে সোমবার (০৬ জুন) বেলা ১১টায় হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।
এ সময় জন্মদিনের কেক কেটে যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. হাবিবুর রহমান, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মানবসমাজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আমার কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. কামাল হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি খালেকুজ্জামান শামীম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মহিউদ্দিন আল আজাদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন হীরা, প্রেসক্লাবের সদস্য ও পপুলার বিডি নিউজের সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবলু, প্রেসক্লাবের সদস্য ও চাঁদপুর প্রবাহের অফিস প্রধান মেহেদী হাছান সর্দার, প্রেসক্লাবের সদস্য ও ইলশেপাড় পত্রিকার প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ, ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন শামীম, আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জয়, প্রেসক্লাবের সদস্য ও মানবসমাজের সহ-সম্পাদক গাজী নাছির উদ্দিন, দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁদপুর শপথ এর প্রতিনিধি মজিবুর রহমান, চাঁদপুর সময় এর প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির ও যায়যায়দিন পত্রিকার ফ্রেন্ডস ফোরাম এর সভাপতি আবু বকর ছিদ্দিক সুমন প্রমুখ।
এ সময় হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে যায়যায়দিন পত্রিকা। বর্তমানে পাঠক প্রিয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, ইতিহাস-ঐতিহ্য, উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, সন্ত্রাস, দূর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে এদেশের মাটি ও মানুষের অধিকারে কথা তুলে ধরার কারনে পাঠকের প্রিয় পত্রিকা এখন দৈনিক যায়যায়দিন। যে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি যদি পত্রিকার পাতায় উঠে আসে, তা হলে ঐসকল অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবো। সেই সাথে সাংবাদিক ও প্রশাসন একসাথে কাজ করলে খুব দ্রুত হাজীগঞ্জের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
সেই সাথে বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশনের জন্য দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রকাাশক, সম্পাদক, বিজ্ঞাপণ দাতা, সংবাদকর্মীসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সেই সাথে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’