শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিম হোসেনপুরে আবাদী জমিতে রাস্তা নির্মাণ না করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুন, ২০২২, ২:১৫ পিএম
পশ্চিম হোসেনপুরে আবাদী জমিতে রাস্তা নির্মাণ না করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি

সজীব খান : চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হোসেনপুরে আবাদী জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রদান করেছেন।

রবিবার পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের মানির মাল জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, ত্রান ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা, কৃষিকর্মকর্তা, চাঁদপুর মডেল থানা ও ইউনিয়ন পরিষকে তিনি অনুলিপি প্রদান করেন।

অনুলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের সাবেক ১৬নং হাল, ২৬নং হোসেনপুর মৌজার বিএস ১৫৩নং খতিয়ানে তার পৈত্রিক সূত্রে ২.৪২ একর ভূমিতে মালিক ও দখলকার বিদ্যমান রয়েছে। তন্মধ্যে ১.৪৬ একর ভূমিতে প্রতি বছর ধান, আলু, পাট, ভূট্ট্রাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য চাষাবাদ করে আসছে। পশ্চিম হোসেনপুর মরহুম খালেক মালের বাড়ির পূর্ব দিকের ফসলি মাঠসহ তাদের জমিতে বর্তমানে আমন ধান ও ভুট্টুা রয়েছে।

এ ছাড়া ও বিলটিতে আশপাশের শত শত মানুষের খ্যদ্যশস্য উৎপাদন করে আসছে।
কিন্তু একটি মহল তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চারিতার্থ করার জন্য হীনউদ্দেশ্যে বিলের মাঝখান দিয়ে গনগুরুত্বহীন একটি রাস্তা নির্মানের জন্য পায়রাতা করে আসছে। ইতিমধ্যে তার পার্শ্ববর্তী কিছু জমিতে মাটি কেটে আট বাধার কারণে তার ৫০ একর জমির ভুট্টুাখেতে পানি জমে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফসলী জমির চারপাশে কাঁচা ও পাকারাস্তা বিদ্যমান রয়েছে। বিলের মধ্যেস্থানে ঐ মহলের নিজস্ব জমির মূল্য বাড়িয়ে অন্যত্র বিক্রি করার জন্য কৃষি জমি ক্ষতি করে রাস্তা নির্মানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

Model Hospital

এখানে অযোক্তিক রাস্তা নির্মানের বাঁধা দেওয়ায় তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে মনির মালকে হুমকী ধমকি দিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেছে। এবং তার নিরাপত্তাহীনতার করনে তিনি উল্লেখিত স্থানে রাস্তা নির্র্মানের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে চাঁদপুর জজ কোটে মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং২০৭/২২।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’