শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় ঐতিহ্যবাহী সাচার রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২, ১:০২ পিএম
কচুয়ায় ঐতিহ্যবাহী সাচার রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

মোঃ রাছেল : জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব সাচার জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা। পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী পহেলা জুলাই প্রথম রথযাত্রা শুরু।এ বছরজগন্নাথ ধাম সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে ১৫৪ তম জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রাচীন এ রথযাত্রা ঘিরে উৎসব এবং উম্মদনায় মেতে ওঠেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনরা।

কোভিড পরিস্থিতি কাটিয়ে দীর্ঘ দুবছর পরে রথযাত্রা উৎসবে শামিল হবেন কচুয়ার তথা দেশ বিদেশের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ। সাচার জগন্নাথ ধামের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ১০ দিন ধরে চলবে এ উৎসব। গত দুবছরে কোনও রকম আড়ম্বর ছাড়াই পালিত হয়েছিল রথযাত্রা। সেকারনে এবারে মহাসমারোহে লক্ষাধিক ভক্ত সমাবেশ হবে বলেও আশা বাদ ব্যক্ত করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

এ রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে সাচার জগন্নাথ ধাম মন্দির কমিটি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করেছেন। আগামী পহেলা জুলাই শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় মঙ্গলআরতি, সকাল সাড়ে ৭টায় ও গুরু পূজা, সকাল ৮টায় চৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, সকাল ৯টায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, দুপুর ১২টায় ভোগা আরতি, দুপুর ২টায় ভজন কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণ, বিকাল ৪টায় জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গন থেকে রথ টেনে পশ্চিম বাজারে আনা হবে। সন্ধ্যায় ৭টায় আরতি কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

জগন্নাধ ধাম পূজা ও সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি বটু কৃষ্ণ বসু ও সিনিয়র সহ-সভাপতি নিখিল দাস জানান, গত দুই বছর করোনা মহামারির কারনে আমরা কোন রকম নিয়ম রক্ষার্থে স্নান যাত্রা ও রথ যাত্রা উৎসব পালন করেছি। আশা করছি স্বমহিমায় ফিরে জাকজমকপূর্ণ ভাবে রথযাত্রা উৎসব পালন করবো। আমরা স্থানীয় এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও দেশ বিদেশের জগন্নাথ দেবের ভক্তবৃন্দের সহযোগীতায় জগন্নাথ দেবের পুনঃনির্মিত ভবন নতুন রূপে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমরা আশা করছি এবারের রথযাত্রায় লক্ষাধিক ভক্তদের সমাগম ঘটবে। তাই এই বিশাল ভীড়কে শৃঙ্খলার মাঝে রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশিপাশি আমাদের মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শতাধিক ভলেন্টিয়ার থাকবে। এছাড়া আগত ভক্তবৃন্দের জন্য পানি এবং প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Model Hospital

রথ উদযাপন কমিটির সভাপতি বাসুদেব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অরুন গোপ ও সুবল দাস জানান, জমিদার গঙ্গা গোবিন্দ সেনের হাত ধরেই আমরা এই জগন্নাথ ধামের রথ যাত্রা উৎসব পালন করে আসছি। গত দুই বছর করোনার কারনে নিয়ম রক্ষায় রথ যাত্রা উৎসব পালনের পর এ বছর ফের পূর্ণ উদ্যমে হতে চলছে সাচার জগন্নাথ ধামের সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজন ১৫৪ বছরের প্রাচীন রথযাত্রা উৎসব। আর এই উৎসবটিকে ঘিরে চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। উৎসবে লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দদের সমাগমে জগন্নাথ ধাম মন্দির প্রাঙ্গনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করবে। আগামী ১লা জুলাই ১ম রথযাত্রা উৎসব ও ৮ই জুলাই উল্টো রথযাত্রা উৎসব। সেই লক্ষ্যে আমরা সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পুলিশের পাশাপাশি আমাদের মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে রথযাত্রার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কথিত আছে যে, প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে সাচার বাবু বাড়ির জমিদার গঙ্গা গোবিন্দ সেন ভারতে হিন্দু তীর্থস্থান পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে গেলে, জগন্নাথ গঙ্গা গোবিন্দকে দর্শন দেননি। বরং পুরীর দরজা-জানালাগুলো আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়। দর্শন লাভে ব্যর্থ হয়ে পরম ধার্মিক গঙ্গা গোবিন্দ সেন দর্শন লাভের আশায় পুরীর বাহিরে আমরন-অনশন শুরু করে দেয়। অনশনের কয়েকদিন অতিবাহিত হলে গঙ্গা গোবিন্দ সেন স্বপ্নাদৃষ্ট হন যে, এ স্থানে জগন্নাথ গঙ্গা গোবিন্দ সেনকে দর্শন না দিয়ে তার সাচারের বাড়ির সম্মুখের দীঘিতে ভাসমান নিম কাঠ আকৃতিতে দর্শন দিবেন। স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে গঙ্গা গোবিন্দ সেন নিজ বাড়ি ফিরে আসেন এবং ক’দিন পর উক্ত দীঘিতে স্নান করার সময় আকস্মিক ভাবে ভাসমান নিম কাঠ আকৃতিতে জগন্নাথ দর্শন লাভ করেন।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।