শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈদ্যনাথপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ উল্লাহ মাস্টারের উঠান বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ৩:১৭ পিএম
বৈদ্যনাথপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ উল্লাহ মাস্টারের উঠান বৈঠক

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে ২৩ নভেম্বর বিকেলে উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান দর্জি।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, ওটার চর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শহীদ উল্লাহ মাস্টার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানা উল্লাহ মোল্লা।

গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- গজরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এমএ ছাত্তার প্রধান, ছেংগারচর পৌর সভার প্যানেল মেয়র আব্দুল মান্নান বেপারী, মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়াজী, মতলব উত্তর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক একেএম আজাদ, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলী আকবর মাষ্টার, ঝিনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শামসুল আলম, গজরা ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী হোসেন প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র ভৌমিক, যুবলীগের নেতা এসএম মোখলেছুর রহমান জনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমেদ, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু মিয়া সরদার, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন প্রধান, আব্বাস উদ্দিন প্রধান, মহসিন আল কবির প্রমুখ।

Model Hospital

উপস্থিত ছিলেন গজরা ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদপ্রার্থী নার্গিস বেগম, সদস্য পদ প্রার্থী ছারফুল আমিন মোল্লা, সদস্য পদপ্রার্থী শাহ আলম মোল্লা, সদস্য পদ প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার বকুল, মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম প্রধান, গজরা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র ভৌমিক, সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মৃধা, গজরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সুমন বেপারী, যুবলীগের নেতা নজরুল ইসলাম প্রধান, জসিম উদ্দিন প্রধান, শিপন প্রধান, সবুজ মোল্লা প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’