শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই : চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিছুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৪৩ পিএম
জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই : চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিছুজ্জামান

এস. এম ইকবাল : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন আ’লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক প্রয়াত আবিদ মিয়া বকাউলের সুযোগ্য সন্তান মো. আনিছুজ্জামান বকাউলের সমর্থনে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের লোহাগড় মজুমদার বাড়ির জামে মসজিদের সামনে উক্ত উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি শাহ্ আলম মুন্সীর সভাপতিত্বে, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক আজহারুল ইসলাম অপুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন পাটওয়ারী ফরিদ, ৪ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুন্সী, ১ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি অলি আহাম্মদ, ৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নেছার আহমেদ সুমন, সদস্য সেলিম পাটওয়ারী, ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা গনি মুন্সী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক নাছির উদ্দীন মুন্সী, যুবলীগ নেতা মো. মেহের উল্লা, শিক্ষক মুক্তার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সাদ্দাম হোসেন ছাড়াও আ’লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ৫ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিছুজ্জামান বকাউল বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান, আপনারা আমার প্রতিবেশী, সব সময় আপনাদের পাশে ছিলাম। নির্বাচিত হলে আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব। আমাকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিন।

আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের উন্নয়নে আমি সর্বদা কাজ করবো, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও নিপিড়িত, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখব ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমি প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় আমি শতভাগ আশাবাদী। আগামীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার সকল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করনে। উঠান বৈঠক শেষে আনিছুজ্জামান বকাউল এলাকার ছোট-বড় সকলের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

উঠান বৈঠকে বক্তারা বলেন, বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের এখনও অনেক দুরাবস্থা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের ছোয়াঁয় আলোকিত করছেন। আমরা সঠিক নেতৃত্ব দানকারী না পাওয়ার কারনে এই ইউনিয়নে এখনও অনেক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমরা এখন চাই সঠিক নেতৃত্ব, যিনি আমাদের এই ইউনিয়নকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়তে পারবেন।

বক্তারা বলেন, করোনাকলীন সময়ে আনিছুজ্জামান বকাউল খেটে খাওয়া অসহায় দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন যা ভুলার মত নয়। আমরা প্রত্যাশা করি আগামীতেও এভাবেই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন তিনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’