শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আ.লীগ সরকার শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে : ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১, ৩:২৬ পিএম
আ.লীগ সরকার শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে : ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বঙ্গবন্ধু মুড়াল ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন- ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি।

মো: রাছেল, কচুয়া : আমি আপনাদের খাদেম, যতদিন বেঁচে থাকবো আপনাদের সেবা করে যাবো। আমি যাতে আপনাদের সেবা করে যেতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

তিনি গতকাল সোমবার কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সোয়া ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

এ সময় মহীউদ্দীন খান আলমগীর আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আজকের প্রজন্ম সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠলে তারা আগামী দিনে সমাজ ও জাতির কল্যানে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে শিক্ষার সকল প্রকার সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা জীবনের উচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত হতে পারে। আজকে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাপক শ্লোগান উঠেছে শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার। হাঁ সত্যিই শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার এজন্য যে শেখ হাসিনার সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে, পুল-কালভার্ট নির্মিত হবে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, জনগণের উন্নয়ন হবে।

জনগণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে স্ব স্ব ধর্ম পালন করতে পারবে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য সফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কচুয়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাড. হেলাল উদ্দীন, উত্তর কচুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম টগর, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যার জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল হোসেন খান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম তালুকদার ও ফারুক হোসেন।

Model Hospital

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি একই দিন চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বঙ্গবন্ধু মুড়াল ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

অধ্যক্ষ লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তুহিন সরকার, সহসভাপতি রমজান, সাধারণ সম্পাদক শাকিল, কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাছুম মজুমদার, পৌর যুবলীগ নেতা কাজী ফারুক, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহাগ উদ্দীন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম খলিল বাদল প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’