শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মুগ্ধতা ছড়ানো লেখক ফোরামের ৪৩৫তম সাহিত্য আড্ডা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:১৮ এম
মুগ্ধতা ছড়ানো লেখক ফোরামের ৪৩৫তম সাহিত্য আড্ডা

এস এম ইকবাল : নিস্তব্ধ বিকেলে স্তব্ধ সাহিত্য। মনোমুগ্ধকর এবং প্রাণবন্ত হলো ৪৩৫ তম সাহিত্য আড্ডাটি। অনেকদিন পর সিনিয়র সাহিত্য আড্ডারুদের সরব উপস্থিতি আসরকে করে তোলে প্রাজ্ঞতাময়। সিনিয়র সাহিত্যিকদের জ্ঞানগর্ব আলোচনায় মুগ্ধতা ছড়ায় তরুণ সাহিত্যিক হৃদয়ে। ডাকাতিয়া নদীর ত্রিমোহনা, দু’পাশ জুড়ে বিস্তৃত চর আর সবুজ গালিচার দু’পাশ জুড়ে সবুজের সমারহে শুধু সাহিত্যেরই আমেজ।

২ ডিসেম্বর শুক্রবার, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ডাক বাংলো সংলগ্ন ডাকাতীয়া নদীর ওপাড়ে সাবেক আঞ্চলিক মহাসড়কে দুপুরের পর থেকে সাহিত্যিকরা জড়ো হতে থাকে। বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মহসিন হাসান শুভ্রের সভাপতিত্বে, প্রতিষ্ঠাতা নূরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় আড্ডার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় সাড়ে তিনটায়।

সাহিত্য আড্ডায় সিনিয়র জুনিয়র অনেক সদস্য উপস্থিত হওয়ায় শুরুতে পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এর পরই শুরু হয় স্বরচিত কবিতা ও গল্প পাঠ এবং তা নিয়ে পর্যালোচনা। আড্ডায় কবিতা পাঠ করেন- দন্ত্যন ইসলাম (বরফকুচিতে মিটে শকুনের তেষ্টা), অমৃত ফরহাদ (ফুল যায় ভ্রমরে ভ্রমরে), ফাতেমা আক্তার শিল্পী (শীতলতা), তারেকুর রহমা তারু (সেকেলে ভালোবাসা), তাজিন লুবনা (স্কুল স্মৃতি)। সাহেদ বিন তাহেরের গল্প (সাদা কাগজ), মোস্তফা কামাল মুকুল (নিবন্ধ, এনালগ ডিজিটাল জীবন)।

লেখাগুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করেন কবি হাসানুজ্জামান, কে এম নজরুল ইসলাম, পাভেল আল ইমরান ও মোস্তফা কামাল মুকুল। ৪৩৫ তম সাহিত্য আড্ডার প্রধান আলোচক ছিলেন পাভেল আল ইমরান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রাবেয়া আক্তার, সমাজকর্মী শাহাদাত খান, তানিয়া আক্তার, ইয়াছিন, ইয়াছিন পাটওয়ারী, মাহাবুব রাব্বানী প্রমুখ। আড্ডায় নবাগত সদস্য তাজিন লুবনার হাতে বই তুলে দিয়ে তাকে সংগঠনে স্বাগত জানানো হয়।

Model Hospital

আগামী ১০ ডিসেম্বর সংগঠনের নবান্ন উৎসব এবং ২৪ ডিসেম্বর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ। দু’টি অনুষ্ঠানে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সভাপতি ৪৩৫ তম আড্ডার সমাপ্তি করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’