শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করলেন চাঁদপুরের সাবেক এডিসি মাহমুদ জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:০৪ পিএম
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করলেন চাঁদপুরের সাবেক এডিসি মাহমুদ জামান
স্টাফ রিপোর্টার : সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করলেন চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
রবিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় সরকারি নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত প্রভাত আনন্দ স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনটি উদযাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি এখানে এসে সত্যিই আনন্দিত। আমার সামনে এতগুলো সুবিধাবঞ্চিত শিশু বসে আছে বই নেয়ার জন্য, তা আসলেই গর্বের বিষয়। এই শিশুরা হয়তো এখান থেকে কোন সনদ নিতে পারবে না কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা নেয়ার যে আগ্রহ তা দেখে খুবই ভালো লাগছে। প্রভাত আনন্দ স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তারা ভবিষ্যতে ভালো ভালো স্কুলে ভর্তি হবে এবং লেখাপড়া করে একদিন ভালো কিছু করবে। তিনি আরো বলেন, প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা অনেক ভালো ভালো কাজ করে, এই সংগঠনের সাথে থাকতে পেরে আমি আনন্দ বোধ করছি। পরিশেষে প্রভাত আনন্দ স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সু স্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।
প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আমির হোসেন রাজুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ সুলতান হোসেন, আবদুর নূর শাহী, ঢাকা মহানগর উত্তর এর ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ এরশাদ মাহমুদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাত কেন্দ্রীয় পরিষদের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শাহাদাত হোসেন পাটওয়ারী, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুল মতিনসহ প্রভাত কেন্দ্রীয় পরিষদ, প্রভাত ঢাকা জেলা শাখা, প্রভাত ফরিদগঞ্জ শাখার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও প্রভাত আনন্দ স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান প্রভাত আনন্দ স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ শেষে সকল শিশুকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে নিজের জন্মদিন পালন করেন। এদিন রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর ব্যক্তিগত আইডিতে লিখেন- জন্মদিনে অনেকেই শুভকামনা জানিয়েছেন। সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
আগারগাঁও এলাকার এই শতাধিক পথশিশুকে মিষ্টিমুখ করাতে পারাটা এবারের জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার।
প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা কে ধন্যবাদ এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’